Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলে আগুন! বাঁচার তাগিদে জানলা দিয়ে মরণঝাঁপ, ‘লেমন গ্রিন’-এ মৃত অন্তত ২১!

দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলে আগুন! বাঁচার তাগিদে জানলা দিয়ে মরণঝাঁপ, ‘লেমন গ্রিন’-এ মৃত অন্তত ২১!
ছবি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: সাতসকালে খোদ দেশের রাজধানীতে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ও মর্মান্তিক বিপর্যয়। বুধবার সকালে দক্ষিণ দিল্লির এক অভিজাত হোটেলে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলেন অন্তত ২১ জন মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও দমচাপা কালো ধোঁয়া গ্রাস করে নেয় গোটা বহুতলটিকে।


 ভিতরে আটকে পড়া আবাসিকরা যখন বুঝতে পারেন চারপাশ থেকে মৃত্যু তেড়ে আসছে, তখন বাঁচার তাগিদে অনেকেই হোটেলের উঁচু তলার জানলা ভেঙে নিচে মরণঝাঁপ দিতে শুরু করেন। এই নারকীয় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়াতেই গোটা দেশে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত দগ্ধ ও গুরুতর জখম অবস্থায় অন্তত ৩৭ জনকে উদ্ধার করে এইমস (AIIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

দমকল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ নামের একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও হোটেলে সকাল ঠিক ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ প্রথম আগুন লাগে। বহুতলটির বেসমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। ওই বিল্ডিংয়ের নিচের তলায় ছিল রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলিতে চলত হোটেলের ব্যবসা। 


সকালের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটায় সেই সময় হোটেলের ২৫টি ঘরে থাকা প্রায় ৪০ জন অতিথির অধিকাংশেরই চোখ ছিল ঘুমের ঘোরে। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায় চারপাশ, যা এই ট্র্যাজেডির তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জানা গেছে, হোটেলটিতে বহু বিদেশি নাগরিকও সপরিবারে ছিলেন, যাঁরা মূলত চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে এসেছিলেন। প্রাথমিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে, মৃতদের মধ্যে আফ্রিকার বেশ কিছু দেশের নাগরিকও রয়েছেন।


অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ে শিউরে ওঠার মতো বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। আগুন লাগার পর যখন পুরো ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, তখন বাঁচার জন্য হাহাকার শুরু হয়। সরকারি সাহায্য পৌঁছানোর আগেই দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন মালব্য নগরের স্থানীয় বাসিন্দারা। ওপর থেকে মানুষদের জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিতে দেখে তড়িঘড়ি তাঁরা নিজেদের বাড়ি থেকে লেপ, তোশক, গদি এবং ম্যাট্রেস এনে নিচে রাস্তার ওপর বিছিয়ে দেন। স্থানীয়দের এই উপস্থিত বুদ্ধির জোরে জানলা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দেওয়া অনেকেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে এবং বড়সড় চোট পাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এলাকার সরু গলি এবং কৌতূহলী জনতার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রথমদিকে দমকলের গাড়ি ঢুকতে ও উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়।


দক্ষিণ জেলার এসডিএম (SDM) জিতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে নিচের রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে এটি শর্ট সার্কিট, নাকি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার লিক থেকে ঘটেছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আসল কারণ জানতে দমকলের পাশাপাশি ফরেনসিক টিমও যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। দিল্লির এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। 


তিনি জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আহত ও মৃতদের পরিবারকে সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সাহায্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে, দিল্লির এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মৃতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : Narendra Modi FIREACCIDENT malviyanagartragedy newdelhihote;fire lemongreenhotel

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলে আগুন! বাঁচার তাগিদে জানলা দিয়ে মরণঝাঁপ, ‘লেমন গ্রিন’-এ মৃত অন্তত ২১!

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: সাতসকালে খোদ দেশের রাজধানীতে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ও মর্মান্তিক বিপর্যয়। বুধবার সকালে দক্ষিণ দিল্লির এক অভিজাত হোটেলে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলেন অন্তত ২১ জন মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও দমচাপা কালো ধোঁয়া গ্রাস করে নেয় গোটা বহুতলটিকে। ভিতরে আটকে পড়া আবাসিকরা যখন বুঝতে পারেন চারপাশ থেকে মৃত্যু তেড়ে আসছে, তখন বাঁচার তাগিদে অনেকেই হোটেলের উঁচু তলার জানলা ভেঙে নিচে মরণঝাঁপ দিতে শুরু করেন। এই নারকীয় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়াতেই গোটা দেশে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত দগ্ধ ও গুরুতর জখম অবস্থায় অন্তত ৩৭ জনকে উদ্ধার করে এইমস (AIIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।দমকল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ নামের একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও হোটেলে সকাল ঠিক ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ প্রথম আগুন লাগে। বহুতলটির বেসমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। ওই বিল্ডিংয়ের নিচের তলায় ছিল রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলিতে চলত হোটেলের ব্যবসা। সকালের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটায় সেই সময় হোটেলের ২৫টি ঘরে থাকা প্রায় ৪০ জন অতিথির অধিকাংশেরই চোখ ছিল ঘুমের ঘোরে। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায় চারপাশ, যা এই ট্র্যাজেডির তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জানা গেছে, হোটেলটিতে বহু বিদেশি নাগরিকও সপরিবারে ছিলেন, যাঁরা মূলত চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে এসেছিলেন। প্রাথমিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে, মৃতদের মধ্যে আফ্রিকার বেশ কিছু দেশের নাগরিকও রয়েছেন।অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ে শিউরে ওঠার মতো বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। আগুন লাগার পর যখন পুরো ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, তখন বাঁচার জন্য হাহাকার শুরু হয়। সরকারি সাহায্য পৌঁছানোর আগেই দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন মালব্য নগরের স্থানীয় বাসিন্দারা। ওপর থেকে মানুষদের জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিতে দেখে তড়িঘড়ি তাঁরা নিজেদের বাড়ি থেকে লেপ, তোশক, গদি এবং ম্যাট্রেস এনে নিচে রাস্তার ওপর বিছিয়ে দেন। স্থানীয়দের এই উপস্থিত বুদ্ধির জোরে জানলা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দেওয়া অনেকেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে এবং বড়সড় চোট পাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এলাকার সরু গলি এবং কৌতূহলী জনতার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রথমদিকে দমকলের গাড়ি ঢুকতে ও উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়।দক্ষিণ জেলার এসডিএম (SDM) জিতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে নিচের রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে এটি শর্ট সার্কিট, নাকি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার লিক থেকে ঘটেছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আসল কারণ জানতে দমকলের পাশাপাশি ফরেনসিক টিমও যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। দিল্লির এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আহত ও মৃতদের পরিবারকে সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সাহায্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে, দিল্লির এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মৃতদের পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার