নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার ভয়াবহ যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র হাহাকার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পেট্রল ও ডিজেলের দামে। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া এই চরম জ্বালানি সংকটের মাঝেই এবার ভারতের আমজনতাকে স্বস্তি দিতে এক যুগান্তকারী মাস্টারস্ট্রোক দিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। দেশের বাজারে উচ্চ মাত্রায় ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে বিপুল শুল্ক ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের ওপর থেকে সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হচ্ছে আবগারি শুল্ক। কেন্দ্রের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর দেশীয় বাজারে বিকল্প এই জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই কমতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আসলে দেশে জ্বালানি সংকট কাটাতে এবং ভিনদেশ থেকে আমদানি করা খনিজ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতে বহুদিন ধরেই ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ওপর বাড়তি জোর দিচ্ছে মোদী সরকার। কেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো, আগামী দিনে স্রেফ ইথানলের ভরসাতেই দেশের সিংহভাগ গাড়ি চালানো হবে। ইথানল মূলত আখ, ভুট্টার মতো বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের পরিবেশবান্ধব জৈব জ্বালানি, যা সাধারণ পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যখন বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আগুন লেগেছে, তখন এই দেশীয় ইথানলের গুরুত্ব যে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে, তা ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছে মোদী সরকার। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আমদানির চাপ কমাতে তাই এই অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
অর্থমন্ত্রকের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত চার ধরনের নতুন ইথানল মিশ্রিত পেট্রলকে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে— ই২২ (২২ শতাংশ ইথানল ও ৭৮ শতাংশ পেট্রল), ই২৫ (২৫ শতাংশ ইথানল ও ৭৫ শতাংশ পেট্রল), ই২৭ (২৭ শতাংশ ইথানল ও ৭৩ শতাংশ পেট্রল) এবং ই৩০ (৩০ শতাংশ ইথানল ও ৭০ শতাংশ পেট্রল)। মোদী সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের ফলে এই চার ধরনের জ্বালানির দাম এবার সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসবে।
স্কুলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, আহত ৬ ছাত্রী;
তবে মনে রাখতে হবে, সাধারণ পেট্রলের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনো রকম করছাড় দেয়নি কেন্দ্র। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতকে তার দৈনিক তেলের চাহিদার সিংহভাগই চড়া দামে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তার ওপর বর্তমান হরমুজ সংকটের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমাতে মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত এক চরম দূরদর্শিতার পরিচয়।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন