Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

দিল্লিতেও ঘরছাড়া মমতা! এনডিএ শিবিরে পার্থ যেতেই পার্টি অফিস খালি করছে তৃণমূল, রাতারাতি সরছে আসবাবপত্র

দিল্লিতেও ঘরছাড়া মমতা! এনডিএ শিবিরে পার্থ যেতেই পার্টি অফিস খালি করছে তৃণমূল, রাতারাতি সরছে আসবাবপত্র
ছবি সংগৃহীত

নয়া দিল্লি: বাংলায় রাজনৈতিক জমি হারানোর পর এবার দেশের রাজধানী দিল্লিতেও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় সংসদীয় দল ভেঙে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দিল্লিতে তৃণমূলের সাধের জাতীয় সদর দফতরটিও হাতছাড়া হতে চলেছে। ২০ ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের যে বাংলোটিতে মাত্র কয়েক মাস আগে মহাসমারোহে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের রাজধানীর নয়া ঠিকানা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখান থেকেই এবার পাততাড়ি গোটাতে হচ্ছে জোড়াফুল শিবিরকে। দলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে সাংসদ পার্থ ভৌমিক এনডিএ (NDA) জোটে শামিল হতেই এই নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে দল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইতিমধ্যেই বাংলোর ভেতর থেকে যাবতীয় আসবাবপত্র ও নথিপত্র সরানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল।


দিল্লির এই হাইপ্রোফাইল পার্টি অফিসটি আসলে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামে সরকারিভাবে বরাদ্দ হওয়া বাংলো ছিল। সাংসদ হওয়ার পর দলকে দিল্লিতে কাজ চালানোর জন্য নিজের এই সরকারি বাসস্থানটি পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন পার্থবাবু। কিন্তু সোমবার দিল্লির রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনে ২০ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল সাংসদ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিতেই সমীকরণ বদলে যায়। সূত্রের খবর, এনডিএ শিবিরে নাম লেখানোর পরপরই পার্থ ভৌমিক নিজের ওই বাংলোটি দলীয় কার্যালয় থেকে মুক্ত করে নিজের হেফাজতে ফেরত চেয়েছেন। আর তাতেই দিল্লির বুকে কার্যত ‘ঠিকানাহীন’ হয়ে পড়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।


তৃণমূলের অন্দরে এই ঐতিহাসিক ভাঙনের পালা শুরু হয়েছিল গত ৩ জুন। কিন্তু সোমবার সেই ফাটল কার্যত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের রূপ নেয়। বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ চলে গিয়েছে মমতা ও অভিষেকের হাতের বাইরে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, রবিবার রাতে দিল্লির এক গোপন ডেরায় বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা। এর পর সোমবার দুপুরে সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন তাঁরা, যেখানে মেগাস্টার দেব ও সায়নী ঘোষদের মতো হেভিওয়েটদের উপস্থিতি সব কিছু জলের মতো পরিষ্কার করে দেয়।


বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় দিল্লির ক্ষমতা এখন ‘আসল তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী ব্লকের দখলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে এই মুহূর্তে লোকসভায় টিকে রয়েছেন মাত্র ৮ জন সাংসদ। এই বিপুল ধসের জেরে দিল্লির রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের পার্টি অফিস থেকে টেবিল, চেয়ার, আলমারি সরানোর যে দৃশ্য আজ দেখা গিয়েছে, তা মমতার দলের জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র রাতারাতি বদলে যাওয়ায় দিল্লির বুকেও এখন অস্তিত্ব রক্ষার মরণপণ লড়াই লড়তে হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে।

বিষয় : Mamata Banerjee delhipolitics TMCINCRISIS parthabhowmik ndajolt

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


দিল্লিতেও ঘরছাড়া মমতা! এনডিএ শিবিরে পার্থ যেতেই পার্টি অফিস খালি করছে তৃণমূল, রাতারাতি সরছে আসবাবপত্র

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image
নয়া দিল্লি: বাংলায় রাজনৈতিক জমি হারানোর পর এবার দেশের রাজধানী দিল্লিতেও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় সংসদীয় দল ভেঙে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দিল্লিতে তৃণমূলের সাধের জাতীয় সদর দফতরটিও হাতছাড়া হতে চলেছে। ২০ ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের যে বাংলোটিতে মাত্র কয়েক মাস আগে মহাসমারোহে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের রাজধানীর নয়া ঠিকানা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখান থেকেই এবার পাততাড়ি গোটাতে হচ্ছে জোড়াফুল শিবিরকে। দলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে সাংসদ পার্থ ভৌমিক এনডিএ (NDA) জোটে শামিল হতেই এই নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে দল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ইতিমধ্যেই বাংলোর ভেতর থেকে যাবতীয় আসবাবপত্র ও নথিপত্র সরানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল।দিল্লির এই হাইপ্রোফাইল পার্টি অফিসটি আসলে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামে সরকারিভাবে বরাদ্দ হওয়া বাংলো ছিল। সাংসদ হওয়ার পর দলকে দিল্লিতে কাজ চালানোর জন্য নিজের এই সরকারি বাসস্থানটি পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন পার্থবাবু। কিন্তু সোমবার দিল্লির রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনে ২০ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল সাংসদ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিতেই সমীকরণ বদলে যায়। সূত্রের খবর, এনডিএ শিবিরে নাম লেখানোর পরপরই পার্থ ভৌমিক নিজের ওই বাংলোটি দলীয় কার্যালয় থেকে মুক্ত করে নিজের হেফাজতে ফেরত চেয়েছেন। আর তাতেই দিল্লির বুকে কার্যত ‘ঠিকানাহীন’ হয়ে পড়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।তৃণমূলের অন্দরে এই ঐতিহাসিক ভাঙনের পালা শুরু হয়েছিল গত ৩ জুন। কিন্তু সোমবার সেই ফাটল কার্যত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের রূপ নেয়। বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ চলে গিয়েছে মমতা ও অভিষেকের হাতের বাইরে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, রবিবার রাতে দিল্লির এক গোপন ডেরায় বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা। এর পর সোমবার দুপুরে সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন তাঁরা, যেখানে মেগাস্টার দেব ও সায়নী ঘোষদের মতো হেভিওয়েটদের উপস্থিতি সব কিছু জলের মতো পরিষ্কার করে দেয়।বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় দিল্লির ক্ষমতা এখন ‘আসল তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী ব্লকের দখলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে এই মুহূর্তে লোকসভায় টিকে রয়েছেন মাত্র ৮ জন সাংসদ। এই বিপুল ধসের জেরে দিল্লির রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের পার্টি অফিস থেকে টেবিল, চেয়ার, আলমারি সরানোর যে দৃশ্য আজ দেখা গিয়েছে, তা মমতার দলের জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র রাতারাতি বদলে যাওয়ায় দিল্লির বুকেও এখন অস্তিত্ব রক্ষার মরণপণ লড়াই লড়তে হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার