Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

হাসিনার উদ্যোগে তৈরি ‘মৈত্রী পাইপলাইন’, যে প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল তারেকের দল-জ্বালানি সংকটে এখন সেই পথেই ভরসা বাংলাদেশের

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬
হাসিনার উদ্যোগে তৈরি ‘মৈত্রী পাইপলাইন’, যে প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল তারেকের দল-জ্বালানি সংকটে এখন সেই পথেই ভরসা বাংলাদেশের

ঢাকা: বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে আবার আলোচনায় এসেছে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ বা ‘মৈত্রী পাইপলাইন’। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ভারতের সঙ্গে এই প্রকল্পের চুক্তি ও নির্মাণ হলেও সে সময় বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির পরিহাস—আজ বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছ থেকে ডিজেল আনতে ঠিক সেই পাইপলাইনই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে যে প্রকল্পের বিরোধিতা হয়েছিল, এখন সেটিই তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের জন্য জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়ার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠতে পারে।


বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারতের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জরুরি সরবরাহ দ্রুত ও কম খরচে নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন।

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন বর্তমানে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এর মধ্যে প্রায় ১২০ কিলোমিটারই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই বিশাল প্রকল্প নির্মাণের ব্যয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ বহন করেছিল বাংলাদেশ এবং বাকি অংশ ভারত ঋণ হিসেবে প্রদান করেছিল।

বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও তুলনামূলক কম খরচে ডিজেল আমদানি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা দেশের সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসায়ী—সবার জন্যই বড়সড় স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

হাইলাইটস

  • শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্মিত হয় ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন।

  • ভারতের সঙ্গে এই চুক্তির সময় বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো এর বিরোধিতা করেছিল।

  • বর্তমান জ্বালানি সংকটে সেই পাইপলাইনই এখন বাংলাদেশের ডিজেল আমদানির সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

  • বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বিতর্কিত এই প্রকল্পই এখন তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের জন্য বড় রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত যে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিই এখন জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাইপলাইনের প্রায় ১২০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে এবং প্রকল্প নির্মাণের ২৫ শতাংশ ব্যয় বাংলাদেশ বহন করেছিল, বাকি অর্থ ভারত ঋণ হিসেবে দিয়েছিল। তার মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিলে কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবার জন্যই এটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে থাকা এই প্রকল্পই এখন বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত মিললে এই পাইপলাইন দিয়েই দ্রুত বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ।


বিষয় : India Bangladesh Friendship

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


হাসিনার উদ্যোগে তৈরি ‘মৈত্রী পাইপলাইন’, যে প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল তারেকের দল-জ্বালানি সংকটে এখন সেই পথেই ভরসা বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image
ঢাকা: বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে আবার আলোচনায় এসেছে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ বা ‘মৈত্রী পাইপলাইন’। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ভারতের সঙ্গে এই প্রকল্পের চুক্তি ও নির্মাণ হলেও সে সময় বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির পরিহাস—আজ বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছ থেকে ডিজেল আনতে ঠিক সেই পাইপলাইনই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে যে প্রকল্পের বিরোধিতা হয়েছিল, এখন সেটিই তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের জন্য জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়ার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠতে পারে।বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারতের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জরুরি সরবরাহ দ্রুত ও কম খরচে নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন বর্তমানে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এর মধ্যে প্রায় ১২০ কিলোমিটারই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই বিশাল প্রকল্প নির্মাণের ব্যয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ বহন করেছিল বাংলাদেশ এবং বাকি অংশ ভারত ঋণ হিসেবে প্রদান করেছিল।বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও তুলনামূলক কম খরচে ডিজেল আমদানি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা দেশের সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসায়ী—সবার জন্যই বড়সড় স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।হাইলাইটস শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্মিত হয় ভারত–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তির সময় বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো এর বিরোধিতা করেছিল। বর্তমান জ্বালানি সংকটে সেই পাইপলাইনই এখন বাংলাদেশের ডিজেল আমদানির সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বিতর্কিত এই প্রকল্পই এখন তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের জন্য বড় রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে। এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত যে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিই এখন জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাইপলাইনের প্রায় ১২০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে এবং প্রকল্প নির্মাণের ২৫ শতাংশ ব্যয় বাংলাদেশ বহন করেছিল, বাকি অর্থ ভারত ঋণ হিসেবে দিয়েছিল। তার মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিলে কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবার জন্যই এটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে থাকা এই প্রকল্পই এখন বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত মিললে এই পাইপলাইন দিয়েই দ্রুত বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার