Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল? ‘রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানলে তবেই এন্ট্রি’, মমতার যোগদানের জল্পনায় চরম শর্ত প্রদেশ কংগ্রেসের!

কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল? ‘রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানলে তবেই এন্ট্রি’, মমতার যোগদানের জল্পনায় চরম শর্ত প্রদেশ কংগ্রেসের!
ছবি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয় এবং দলের অন্দরে বিধায়ক-সাংসদদের গণ-বিদ্রোহের পর এবার কি রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে স্রেফ কংগ্রেসের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র রাস্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন সবথেকে বড় গুঞ্জন— খুব শীঘ্রই নাকি সদলবলে কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস! সূত্রের দাবি, দুই দলের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই ১০ জনপথে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা ও অভিষেকের শীর্ষস্তরে দফায় দফায় আলোচনাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দিল্লির হাইকমান্ড মমতাকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হলেও, বাংলার প্রদেশ নেতৃত্ব কি তা আদৌ মেনে নেবে? যে কর্মীরা এতদিন ঘাসফুল শিবিরের হাতে মার খেয়েছেন, তাঁরা কি মমতাকে নিজেদের নেত্রী বলে মেনে নিতে পারবেন? এই প্রশ্নেই এখন তীব্র পারদ চড়েছে প্রদেশ কংগ্রেসে।


তৃণমূলের এই চরম দুঃসময়ে তাদের হাত ধরার প্রশ্নে কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত বঙ্গ কংগ্রেস। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান কোনওরকম রাখঢাক না রেখেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” অর্থাৎ মমতার সঙ্গে কোনওরকম বোঝাপড়ার প্রশ্নই ওঠে না। একই সুর শোনা গিয়েছে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর গলাতেও। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, আজ তাঁকেই নিজের পিঠ বাঁচাতে গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতেপায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল তো ভোগ করতে হবেই।” বর্ষীয়ান নেতাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই মুহূর্তে মমতাকে দলে নেওয়ার অর্থ হলো তৃণমূলের গত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের দায় নিজেদের ঘাড়ে টেনে নেওয়া, যা তাঁরা কিছুতেই হতে দেবেন না।

মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে শ্যামপুকুরে ভজন-কীর্তন

অন্য দিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনামূলক নরম হলেও, তিনিও ঝুলিয়ে দিয়েছেন এক মস্ত বড় শর্তের খাঁড়া। শুভঙ্কর বাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেউ যদি কংগ্রেসে আসতে চান, তবে তাঁকে নিঃশর্তে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই দলের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর মুখ। তাঁর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধীকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যাঁরা কংগ্রেসে আসবেন, তাঁদের প্রত্যেককে স্বাগত।” তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে প্রদেশ সভাপতিও অত্যন্ত কঠোর। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কারও গায়ে যদি দুর্নীতির দাগ লেগে থাকে এবং স্রেফ কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যদি কেউ কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান, তবে তাঁর জন্য দরজা কোনওভাবেই খোলা হবে না। দিল্লির ১০ জনপথে পরপর দু'দিন সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে পিসি-ভাইপোর দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এখন প্রদেশ কংগ্রেসের এই কড়া অবস্থান মমতার চালকে কোন দিকে ঘুরিয়ে দেয়, সেটাই দেখার।

বিষয় : ABHISEKH BANERJEE Rahul Gandhi CONGRESSTMCCONJUNCTION ADHIRCHAUDHURY

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছে তৃণমূল? ‘রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানলে তবেই এন্ট্রি’, মমতার যোগদানের জল্পনায় চরম শর্ত প্রদেশ কংগ্রেসের!

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয় এবং দলের অন্দরে বিধায়ক-সাংসদদের গণ-বিদ্রোহের পর এবার কি রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে স্রেফ কংগ্রেসের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র রাস্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন সবথেকে বড় গুঞ্জন— খুব শীঘ্রই নাকি সদলবলে কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস! সূত্রের দাবি, দুই দলের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই ১০ জনপথে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা ও অভিষেকের শীর্ষস্তরে দফায় দফায় আলোচনাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দিল্লির হাইকমান্ড মমতাকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হলেও, বাংলার প্রদেশ নেতৃত্ব কি তা আদৌ মেনে নেবে? যে কর্মীরা এতদিন ঘাসফুল শিবিরের হাতে মার খেয়েছেন, তাঁরা কি মমতাকে নিজেদের নেত্রী বলে মেনে নিতে পারবেন? এই প্রশ্নেই এখন তীব্র পারদ চড়েছে প্রদেশ কংগ্রেসে।তৃণমূলের এই চরম দুঃসময়ে তাদের হাত ধরার প্রশ্নে কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত বঙ্গ কংগ্রেস। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান কোনওরকম রাখঢাক না রেখেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” অর্থাৎ মমতার সঙ্গে কোনওরকম বোঝাপড়ার প্রশ্নই ওঠে না। একই সুর শোনা গিয়েছে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর গলাতেও। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, আজ তাঁকেই নিজের পিঠ বাঁচাতে গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতেপায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল তো ভোগ করতে হবেই।” বর্ষীয়ান নেতাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই মুহূর্তে মমতাকে দলে নেওয়ার অর্থ হলো তৃণমূলের গত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের দায় নিজেদের ঘাড়ে টেনে নেওয়া, যা তাঁরা কিছুতেই হতে দেবেন না।মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে শ্যামপুকুরে ভজন-কীর্তনঅন্য দিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনামূলক নরম হলেও, তিনিও ঝুলিয়ে দিয়েছেন এক মস্ত বড় শর্তের খাঁড়া। শুভঙ্কর বাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেউ যদি কংগ্রেসে আসতে চান, তবে তাঁকে নিঃশর্তে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই দলের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর মুখ। তাঁর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধীকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যাঁরা কংগ্রেসে আসবেন, তাঁদের প্রত্যেককে স্বাগত।” তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে প্রদেশ সভাপতিও অত্যন্ত কঠোর। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কারও গায়ে যদি দুর্নীতির দাগ লেগে থাকে এবং স্রেফ কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যদি কেউ কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান, তবে তাঁর জন্য দরজা কোনওভাবেই খোলা হবে না। দিল্লির ১০ জনপথে পরপর দু'দিন সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে পিসি-ভাইপোর দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এখন প্রদেশ কংগ্রেসের এই কড়া অবস্থান মমতার চালকে কোন দিকে ঘুরিয়ে দেয়, সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার