নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে যখন শান্তি ফেরানোর তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই মাঝসমুদ্রে আক্রান্ত হল ভারতের দু'টি তেলবাহী জাহাজ। হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল ইরানের নৌসেনা। এই অতর্কিত হামলায় প্রাণভয়ে মাঝপথ থেকেই পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় জাহাজ দু'টি। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আবহে ইরানের এমন মারমুখী আচরণে চরম ক্ষুব্ধ সাউথ ব্লক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধেই ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
জানা গিয়েছে, ‘জাগ অর্ণব’ এবং ‘সামনার হেরাল্ড’ নামের দু'টি জাহাজ ইরাক থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে ফিরছিল। উত্তর ওমান উপকূলে পৌঁছাতেই ইরানের নৌসেনার কুনজরে পড়ে তারা। হঠাৎই জাহাজ দু'টি লক্ষ্য করে গুলি চালানো শুরু হয়। হামলায় ‘জাগ অর্ণব’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর মিললেও, ‘সামনার হেরাল্ড’ কোনও ক্রমে রক্ষা পেয়েছে। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে - জাহাজ দু'টি গতিপথ বদলে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
ভারতীয় জাহাজে হামলার খবর পৌঁছতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় দিল্লির প্রশাসনিক মহলে। কেন আন্তর্জাতিক জলপথে ভারতীয় বাণিজ্যতরীর উপর হামলা চালানো হল, কড়া ভাষায় তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালিকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ওমান উপসাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাঙ্কার মজুত থাকলেও বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি কোনও নৌবাহিনী নেই, যার সুযোগ ইরান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের দীর্ঘদিনের রেষারেষির জেরেই এই আক্রমণ। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ইরান হরমুজ খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু, ট্রাম্প পাল্টা অবরোধ বজায় রাখার কথা বলতেই মেজাজ হারায় তেহরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি না মানলে হরমুজ বন্ধই থাকবে। আর, দুই দেশের এই টানাপড়েনের মাঝেই এবার আক্রান্ত হতে হল ভারতীয় তেলবাহী জাহাজকে।
বিষয় : IRAN newdelhi NAVYATTACK INDIANOIL SUMMONS

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন