নয়াদিল্লি/ মস্কো: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, তখন এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব জ্বালানি বাজার। যে রাশিয়া ভারতকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল, এবার সেই রাশিয়া নিজেই পড়েছে চরম জ্বালানি সংকটে। ইউক্রেনের একের পর এক ড্রোন হামলায় পুতিনের দেশের একাধিক তৈল শোধনাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরে পেট্রোলের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ‘বন্ধু’ দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে এবার ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়াল ভারত। রয়টার্সের এক বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়া এবার সমুদ্রপথে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাসোলিন বা পেট্রোল আমদানি করা শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ভারত থেকে দুটি বিশাল ট্যাঙ্কারে করে ৬০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি পেট্রোল রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রতিটি ট্যাঙ্কারে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন পেট্রোল থাকায় এই সরবরাহের পরিমাণ ৮০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে। আসলে গ্রীষ্মকালে রাশিয়ায় জ্বালানির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যেখানে প্রতিদিন অন্তত ১ লক্ষ ১০ হাজার টন পেট্রোলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়ার ১১টি টাইম জোন জুড়েই পেট্রোল পাম্পগুলিতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে এবং খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়া প্রতি মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টন পেট্রোল আমদানির মেগা প্ল্যান করেছে, যার মধ্যে ভারতের পাশাপাশি রেলপথে বেলারুশও তাদের সাহায্য করছে।
সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই জ্বালানি সংকটের কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণেই কয়েকটি অঞ্চলে সাময়িক এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তবে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির পথ মসৃণ করতে গত সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্টে কর আইনে ঐতিহাসিক সংশোধনীও আনা হয়েছে। এই নতুন নিয়মে ভারত থেকে আমদানিকৃত জ্বালানির খরচ ও পরিবহণ মূল্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, জুন মাসেই রাশিয়া থেকে প্রতিদিন রেকর্ড ২.৭০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল ভারত, যা ছিল ভারতের মোট আমদানির অর্ধেকেরও বেশি। আর এবার অপরিশোধিত তেল আমদানির বদলে খোদ রাশিয়াকেই শোধিত পেট্রোল জোগান দিয়ে বন্ধুত্বের এক নতুন নজির গড়ল নয়া দিল্লি।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন