লাহোর: ক্লাস চলাকালীনই ঘটে গেল এক চরম মর্মান্তিক ও হাড়হিম করা দুর্ঘটনা। প্রতিদিনের মতোই মন দিয়ে পড়াশোনা করছিল খুদে পড়ুয়ারা, কিন্তু আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আস্ত একটা কোচিং সেন্টারের ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল ১৪ জন নিষ্পাপ শিশুর। মঙ্গলবার ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের লাহোরে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিক্ষক-সহ আরও ৯ জন। এই ঘটনার পর পাকিস্তান জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইতিমধ্যেই ওই কোচিং সেন্টারের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচিং সেন্টারটি যে বিল্ডিংয়ে চলত সেটি ছিল বহু বছরের পুরনো একটি জরাজীর্ণ বাড়ি। বহুতল এই বাড়ির একতলায় প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও ছাত্রছাত্রীরা পড়তে এসেছিল। ক্লাস চলাকালীন আচমকাই বিকট শব্দ করে ভেঙে পড়ে দোতলার ছাদটি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং কান্নার রোল ওঠে। বিকট শব্দ শুনে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল এসে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৪টি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত বাকি ৯ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তদন্তের পর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বহুতল বাড়িটির দোতলার অংশটি বহুদিন ধরেই অসমাপ্ত অবস্থায় পড়েছিল। শুধু তাই নয়, বাড়িটি তৈরির সময় অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এবং নিম্নমানের কাজের জেরে বাড়িটির ভিত সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার জেরেই এই ভয়ংকর ধস। লাহোর পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই গাফিলতির পেছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ক্লাসঘরের ভেতরেই এতগুলি শিশুর এমন অকালমৃত্যুর ঘটনায় পাকিস্তান জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন