Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

৩০০ টাকার জায়গায় চাওয়া হলো ২ লাখ! মিউটেশনের নামে ‘তোলাবাজি’র পর্দাফাঁস, হাই কোর্টের তীব্র তাড়া খেল বিধাননগর পুরনিগম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬
৩০০ টাকার জায়গায় চাওয়া হলো ২ লাখ! মিউটেশনের নামে ‘তোলাবাজি’র পর্দাফাঁস, হাই কোর্টের তীব্র তাড়া খেল বিধাননগর পুরনিগম
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদ জোগাড়ের স্বপ্নকে হাতিয়ার করে কি দিনের পর দিন ‘প্রাতিষ্ঠানিক তোলাবাজি’ চালিয়ে গিয়েছে বিধাননগর পুরনিগম? বাড়ির মিউটেশন করার নামে নাগরিকদের থেকে নিয়মের বাইরে গিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতানোর এক মারাত্মক অভিযোগে এবার কলকাতা হাই কোর্টের চরম কোপের মুখে পড়ল পুর প্রশাসন। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পুরনিগমের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। আগামী মঙ্গলবার এই লেভি বা বাড়তি টাকা তোলার যাবতীয় খতিয়ান ও গোপন নথি নিয়ে পুর কর্মকর্তাদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।


আদালতে মামলাকারীর আইনজীবীরা নথি পেশ করে দেখান, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে আইনি মোড়কে এই বিশাল দুর্নীতি চালানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ফ্ল্যাটের ভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন অনুযায়ী যেখানে মিউটেশন ফি হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, সেখানে নাগরিকদের থেকে দাবি করা হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা! মিউটেশন সার্টিফিকেট আটকে রেখে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা কার্যত ‘তোলা’ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। মামলাকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে সাফ জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নজির, যেখানে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হতো।


আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তের আমলে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এই বাড়তি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, পুরসভার ভাঁড়ারে তীব্র আর্থিক অনটন চলছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আদালতকে আগের সরকারও লিখিতভাবে জানিয়েছিল যে এই ধরনের বাড়তি লেভি তোলার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। আবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমান নতুন সরকারও আদালতে রিপোর্ট দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, মিউটেশনের সঙ্গে এমন বাড়তি টাকা তোলার কোনো আইনি বৈধতা বা অনুমোদন সরকার দেয়নি। দুই সরকারের এই একই রিপোর্টের পর বিচারপতির প্রশ্ন— যদি সরকারি অনুমোদনই না থাকে, তাহলে এত বছর ধরে নাগরিকদের পকেট কেটে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হলো, তার হিসেব কোথায়? সেই বিপুল টাকা কার পকেটে গেল?


কলকাতা পুরসভা ছাড়া রাজ্যের প্রায় সব পুরসভাতেই মিউটেশনের নামে নাগরিকদের থেকে ফ্ল্যাট বা বাড়ি পিছু এমন মোটা টাকা আদায়ের অলিখিত অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বিধাননগর পুরসভার এই মামলাটি এবার সেই সিন্ডিকেটের মূলে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে। আগামী মঙ্গলবার আদালত এই বিপুল টাকার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেখতে চেয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বছরের পর বছর ধরে চলা এই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির জল কতদূর গড়ায় এবং আদালতের রায়ে কোনো বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ আসে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী আমজনতা।

বিষয় : BengalPolitics CalcuttaHighCourt bidhannagarmunicipalcorporation mutationscam

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


৩০০ টাকার জায়গায় চাওয়া হলো ২ লাখ! মিউটেশনের নামে ‘তোলাবাজি’র পর্দাফাঁস, হাই কোর্টের তীব্র তাড়া খেল বিধাননগর পুরনিগম

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সাধারণ মানুষের মাথার ওপর ছাদ জোগাড়ের স্বপ্নকে হাতিয়ার করে কি দিনের পর দিন ‘প্রাতিষ্ঠানিক তোলাবাজি’ চালিয়ে গিয়েছে বিধাননগর পুরনিগম? বাড়ির মিউটেশন করার নামে নাগরিকদের থেকে নিয়মের বাইরে গিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতানোর এক মারাত্মক অভিযোগে এবার কলকাতা হাই কোর্টের চরম কোপের মুখে পড়ল পুর প্রশাসন। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পুরনিগমের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। আগামী মঙ্গলবার এই লেভি বা বাড়তি টাকা তোলার যাবতীয় খতিয়ান ও গোপন নথি নিয়ে পুর কর্মকর্তাদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।আদালতে মামলাকারীর আইনজীবীরা নথি পেশ করে দেখান, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে আইনি মোড়কে এই বিশাল দুর্নীতি চালানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ফ্ল্যাটের ভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন অনুযায়ী যেখানে মিউটেশন ফি হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, সেখানে নাগরিকদের থেকে দাবি করা হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা! মিউটেশন সার্টিফিকেট আটকে রেখে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা কার্যত ‘তোলা’ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। মামলাকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে সাফ জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নজির, যেখানে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা হতো।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তের আমলে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এই বাড়তি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, পুরসভার ভাঁড়ারে তীব্র আর্থিক অনটন চলছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আদালতকে আগের সরকারও লিখিতভাবে জানিয়েছিল যে এই ধরনের বাড়তি লেভি তোলার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। আবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমান নতুন সরকারও আদালতে রিপোর্ট দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, মিউটেশনের সঙ্গে এমন বাড়তি টাকা তোলার কোনো আইনি বৈধতা বা অনুমোদন সরকার দেয়নি। দুই সরকারের এই একই রিপোর্টের পর বিচারপতির প্রশ্ন— যদি সরকারি অনুমোদনই না থাকে, তাহলে এত বছর ধরে নাগরিকদের পকেট কেটে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হলো, তার হিসেব কোথায়? সেই বিপুল টাকা কার পকেটে গেল?কলকাতা পুরসভা ছাড়া রাজ্যের প্রায় সব পুরসভাতেই মিউটেশনের নামে নাগরিকদের থেকে ফ্ল্যাট বা বাড়ি পিছু এমন মোটা টাকা আদায়ের অলিখিত অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বিধাননগর পুরসভার এই মামলাটি এবার সেই সিন্ডিকেটের মূলে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে। আগামী মঙ্গলবার আদালত এই বিপুল টাকার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেখতে চেয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বছরের পর বছর ধরে চলা এই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির জল কতদূর গড়ায় এবং আদালতের রায়ে কোনো বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ আসে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী আমজনতা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার