বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। বৃহস্পতিবার ৩০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির একটি মামলায় শুনানির পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলার পাশাপাশি আরও বড় অঙ্কের তোলাবাজির অভিযোগও সামনে আসতে পারে, যার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে অভিযোগকারীর কাছে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। অভিযোগ, ওই টাকা থেকে একটি অংশও আদায় করা হয়েছিল। এই মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হলেও আদালত সাত দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করে। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক তোলাবাজি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেই মামলাগুলিও আদালতে পেশ করা হবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে।
এ দিনের মামলার অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দিও রেকর্ড করেছে আদালত। তদন্তকারীদের অনুমান, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম জড়িয়ে পড়তে পারে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সংঘবদ্ধভাবে একটি তোলাবাজি চক্র পরিচালিত হত। বৃহস্পতিবার বাগুইআটি থানা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দেবরাজকে বারাসত আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এদিকে, দেবরাজের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাগুইআটির প্রোমোটার কিশোর হালদার। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেবরাজ ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে মারধর করেছিলেন এবং সেই ঘটনায় তাঁর মাথা ফেটে যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্তে সব অভিযোগেরই সত্য সামনে আসবে।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন