কলকাতা: রুই, কাতলা থেকে শুরু করে ইলিশ কিংবা চিংড়ি— পাত পেড়ে মাছ না খেলে বাঙালির দুপুরের খাওয়াটাই যেন ঠিক জমে না। কিন্তু আপনি বাজার থেকে যে মাছটিকে এক্কেবারে ‘তাজা’ এবং ‘সতেজ’ ভেবে চড়া দামে কিনে আনছেন, তা আদতে বিষ নয় তো?
দীর্ঘক্ষণ মাছ ভালো রাখতে এবং পচন রুখতে আজকাল একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মাছের গায়ে দেদার মেশাচ্ছেন ‘ফর্মালিন’ নামক এক মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক। চিকিৎসকদের মতে, এই বিষাক্ত কেমিক্যাল নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ থাবা বসাতে পারে আমাদের লিভার ও ফুসফুসে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ সামান্য কিছু ঘরোয়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললেই রান্নাঘরে বসে মাছের এই মারণ বিষকে এক লহমায় পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।
বিষ তাড়াতে প্রথম অস্ত্র নুন-জল ও ভিনিগার, বাগে আসবে আঁশটে গন্ধও
বাজার থেকে মাছ কিনে আনার পর প্রথম কাজই হলো কলের ঠান্ডা জলের প্রখর স্রোতে মাছটিকে অন্তত দশ থেকে পনেরো মিনিট খুব ভালো করে ধুয়ে নেওয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন, টানা জলের স্রোতে ধুলে মাছের গায়ে লেগে থাকা ক্ষতিকর কেমিক্যালের উপরিভাগের আস্তরণ অনেকটাই ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। এরপর ফর্মালিন দূর করার সবচেয়ে সেরা এবং কার্যকরী ঘরোয়া উপায় হলো লবণ-জলের জাদু। একটি বড় পাত্রে জলের সঙ্গে বেশ খানিকটা নুন মিশিয়ে তাতে মাছের টুকরোগুলো অন্তত পনেরো মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। নুনের তীব্রতা রাসায়নিকের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এছাড়া বাড়িতে ভিনিগার থাকলে এক বাটি জলের সঙ্গে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে মাছ ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এতে বিষাক্ত পদার্থ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাছের তীব্র আঁশটে গন্ধও উধাও হয়ে যায়।
হেঁশেলের লেবু, হলুদ আর চাল ধোয়া জলের কেরামতিতেই বাজিমাত!
যদি ঘরে ভিনিগার না থাকে, তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। আপনার ফ্রিজে থাকা সাধারণ পাতিলেবুর রসই এই মারণ কেমিক্যালের যম হতে পারে। লেবুর প্রাকৃতিক অ্যাসিডিক গুণ নিমেষের মধ্যে ফর্মালিনের কার্যক্ষমতা কেটে দেয়। এছাড়া মাছ কাটার পর তাতে সামান্য হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে তারপর পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিলে মাছের গায়ের সমস্ত ক্ষতিকর জীবাণু ও ব্যাকটিরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।
পাশাপাশি, আমাদের ঠাকুমা-দিদিমাদের আমল থেকে চলে আসা চাল ধোয়া জল দিয়ে মাছ পরিষ্কার করার রেওয়াজটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। চাল ধোয়া জলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক স্টার্চ মাছের গায়ে লেগে থাকা সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থকে চুষে নিতে সাহায্য করে। মাত্র দশ মিনিট এই জলে মাছ ডুবিয়ে রেখে সাধারণ জলে ধুয়ে নিলেই কেল্লাফতে! তবে মনে রাখবেন, এই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর মাছটিকে সবসময় উচ্চ তাপমাত্রায় সঠিকভাবে ফুটিয়ে রান্না করা জরুরি, যাতে ভেতরে থাকা অবশিষ্ট জীবাণুও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরিবারকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চলুন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন