কলকাতা: ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর তপ্ত দুপুরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চে যখন শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই সকলের নজর কাড়ল তাঁর পোশাক। সচরাচর সাদা পাঞ্জাবি-পাজামায় অভ্যস্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র এদিন ধরা দিলেন একেবারে ভিন্ন সাজে। দুধে আলতা পাড়ের সাদা ধুতি, গেরুয়া হাফ হাতা ফতুয়া আর কপালে তিলক — শুভেন্দুর এই সচেতন বেশ কি কেবলই ব্যক্তিগত পছন্দ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই পোশাক নির্বাচন আসলে আরএসএস এবং বাঙালি আবেগের এক নিখুঁত মেলবন্ধন। ফতুয়ার গেরুয়া রঙ এবং হাফ হাতা কাট সাধারণত সঙ্ঘের পূর্ণকালীন প্রচারকদের মধ্যে দেখা যায়। যা দিয়ে তিনি ‘সাধারণ জীবনযাপন’-এর বার্তা দিতে চেয়েছেন। আরএসএসের ঘরের ছেলে না হয়েও সঙ্ঘের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেছেন শুভেন্দু। তাই, শপথের দিন সঙ্ঘের সেই আদর্শের প্রতি ‘একাত্মতা’র বার্তা দিলেন তিনি।
অন্যদিকে, সরু দুধে আলতা পাড় সাদা ধুতিতে শুভেন্দু মনে করিয়ে দিলেন তাঁর বাঙালি সত্ত্বাকে। নির্বাচনের আগে বারবার তৃণমূল অভিযোগ তুলেছিল যে বিজেপি একটি ‘বাঙালিবিরোধী’ দল। অমিত শাহ কথা দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়া কোনও বাঙালিই হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ধুতি-পাঞ্জাবিতে শপথ নিয়ে শুভেন্দু কার্যত শাহের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই তুলে ধরলেন। তিনি যেন বুঝিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি ‘দূরের নক্ষত্র’ নন, বরং মাটির মানুষ হয়েই থাকবেন।
শনিবার শুভেন্দুর পাশাপাশি শপথ নিয়েছেন তাঁর মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্য। দিলীপ ঘোষের পরনে ছিল চিরাচরিত সাদা ফুলহাতা পাঞ্জাবি ও পাজামা। অগ্নিমিত্রা পাল নজর কেড়েছেন লাল পাড়-সাদা শাড়ি ও বিজেপির প্রতীক আঁকা উত্তরীয়তে। নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডুও নিজেদের পোশাকে গেরুয়া ও হলুদের ছোঁয়া রেখেছিলেন। তবে, সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল শুভেন্দুর সেই ‘দুধে আলতা পাড়ের সাদা ধুতি আর গেরুয়া ফতুয়া’। যা আগামী দিনে বিজেপি সরকারের সাংস্কৃতিক অভিমুখ কী হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন