তীব্র দাবদাহে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, তখন শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে পান্তা ভাতের বিকল্প নেই। ওডিশার 'পোখাল' হোক বা বাঙালির প্রিয় পান্তা— এই খাবারটি কেবল সুস্বাদুই নয়, বরং এর পুষ্টিগুণ যে কোনো দামী হেলথ ড্রিঙ্ককেও হার মানাতে পারে। পান্তা ভাতের ম্যাজিক গুণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
প্রোবায়োটিকের ভাণ্ডার: সারারাত ভাত জলে ভিজে থাকার ফলে এতে প্রচুর পরিমাণে উপকারী ব্যাকটিরিয়া বা প্রোবায়োটিক তৈরি হয়। এটি আমাদের 'গাট হেলথ' বা পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
অবিশ্বাস্য আয়রন: সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ প্রায় ২১ গুণ বেশি থাকে। ১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে যেখানে ৩.৪ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে পান্তা ভাতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম।
ইমিউনিটি ও এনার্জি: গাঁজন প্রক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং সারাদিন কাজ করার জন্য প্রচুর শক্তি জোগায়।Z: পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১২ তৈরি হয়, যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এমনকি অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীদের জন্য পান্তা ভাত ওষুধের মতো কাজ করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে সোডিয়াম কম এবং পটাশিয়াম অনেক বেশি থাকে। ফলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
ত্বকের জেল্লা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: একে এশিয়ার 'বিউটি সিক্রেট' বলা হয়। এটি শরীরে কোলাজেন তৈরি করে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। এছাড়া ফারমেন্টেশনের ফলে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট কমে যাওয়ায় নির্দিষ্ট পরিমাণে পান্তা খেলে ওজন কমাতেও সুবিধা হয়।
রিহাইড্রেশন: গরমকালে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পান্তা ভাতের জুড়ি মেলা ভার।
সতর্কতা: ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগীরা অল্প পরিমাণে পান্তা ভাত খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত ভাজাভুজি বা চানাচুর দিয়ে খেলে উপকারের বদলে অপকার হতে পারে। কাঁচা লঙ্কা, পিঁয়াজ, লেবু এবং সামান্য সরষের তেল দিয়েই পান্তার আসল আনন্দ উপভোগ করুন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন