Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

নারী সংরক্ষণের আড়ালে ‘ক্ষমতা দখলের ছক’? বিল মুখ থুবড়ে পড়তেই কেন্দ্রের বয়ান ও বিরোধীদের পালটা তোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
নারী সংরক্ষণের আড়ালে ‘ক্ষমতা দখলের ছক’? বিল মুখ থুবড়ে পড়তেই কেন্দ্রের বয়ান ও বিরোধীদের পালটা তোপ
প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলা চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই লোকসভায় বড়সড় ধাক্কা খেল মোদি সরকারের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। বিশেষ অধিবেশনে পেশ করা এই বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আপাতত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধ। 


একদিকে যখন বিজেপি এই ব্যর্থতার জন্য বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা দিচ্ছে, অন্যদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের দাবি— এটি নারী কল্যাণের লড়াই নয়, বরং আসন পুনর্বিন্যাসের আড়ালে ক্ষমতা দখলের এক সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ছিল। এই বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি ‘এফএকিউ’ (FAQ) বা ঘনঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরে সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে।


কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতেই দ্রুত এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তাদের যুক্তি, ১৯৭১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে বর্তমানে সংসদীয় আসন নির্ধারিত রয়েছে, যা ১৪০ কোটির এই বিশাল দেশের জন্য আর পর্যাপ্ত নয়। তাই লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের প্রধান আপত্তির জায়গাটি হলো ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস। 


প্রিয়াঙ্কা গান্ধী থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব সরব হয়েছেন এই মর্মে যে, কেন নারী সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে? বিরোধীদের অভিযোগ, উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে আদতে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে গেরুয়া শিবির, যা দক্ষিণ ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেবে।


সাফাই দিতে গিয়ে মোদি সরকার জানিয়েছে, জনগণনা এবং তার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ, তাই এখন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি ছিল। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো বিরোধী নেতারা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, বর্তমান আসন সংখ্যার মধ্যেই কেন ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলো না? তাঁদের দাবি, এটি আসলে গণতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে ক্ষমতায় টিকে থাকার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। 


বিল পাশে ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্র ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেও বিরোধীদের ‘অনৈতিক ডিলিমিটেশন’ তত্ত্ব খারিজ করতে তারা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ভোটের আগে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে জনমানসে কার ন্যারেটিভ বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

বিষয় : WOMENRESERVATIONBILL narishaktivandanadhiniyam delimitation modisarkar parliamentupdate

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


নারী সংরক্ষণের আড়ালে ‘ক্ষমতা দখলের ছক’? বিল মুখ থুবড়ে পড়তেই কেন্দ্রের বয়ান ও বিরোধীদের পালটা তোপ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলা চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই লোকসভায় বড়সড় ধাক্কা খেল মোদি সরকারের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। বিশেষ অধিবেশনে পেশ করা এই বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আপাতত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধ। একদিকে যখন বিজেপি এই ব্যর্থতার জন্য বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ তকমা দিচ্ছে, অন্যদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের দাবি— এটি নারী কল্যাণের লড়াই নয়, বরং আসন পুনর্বিন্যাসের আড়ালে ক্ষমতা দখলের এক সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ছিল। এই বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি ‘এফএকিউ’ (FAQ) বা ঘনঘন জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরে সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে।কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতেই দ্রুত এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তাদের যুক্তি, ১৯৭১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে বর্তমানে সংসদীয় আসন নির্ধারিত রয়েছে, যা ১৪০ কোটির এই বিশাল দেশের জন্য আর পর্যাপ্ত নয়। তাই লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের প্রধান আপত্তির জায়গাটি হলো ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব সরব হয়েছেন এই মর্মে যে, কেন নারী সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে? বিরোধীদের অভিযোগ, উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে আদতে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে গেরুয়া শিবির, যা দক্ষিণ ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেবে।সাফাই দিতে গিয়ে মোদি সরকার জানিয়েছে, জনগণনা এবং তার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ, তাই এখন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি ছিল। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো বিরোধী নেতারা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, বর্তমান আসন সংখ্যার মধ্যেই কেন ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলো না? তাঁদের দাবি, এটি আসলে গণতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে ক্ষমতায় টিকে থাকার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। বিল পাশে ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্র ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেও বিরোধীদের ‘অনৈতিক ডিলিমিটেশন’ তত্ত্ব খারিজ করতে তারা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ভোটের আগে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে জনমানসে কার ন্যারেটিভ বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার