কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন রক্তপাতহীন ও অবাধ করতে কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার জেলাশাসক (DM), পুলিশ কমিশনার (CP) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যসচিব। সাফ জানানো হয়েছে, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত হিংসাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে এই আধিকারিক ও আমলাদের। সর্বাধিক ১৬ এপ্রিল বিকেল ৫টার মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
মুখ্যসচিবের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় যে সমস্ত বুথ বা এলাকায় গোলমাল হয়েছিল, সেখানে সশরীরে যেতে হবে আধিকারিকদের। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে ওই সমস্ত ‘স্পর্শকাতর’ এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। নবান্নর লক্ষ্য, ভোটের আগে বা পরে কোনওভাবেই যেন অশান্তির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
ভোটের দিন যোগাযোগের কোনও সমস্যা যাতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তার জন্য প্রতিটি ভোটগ্রহণকেন্দ্রে মোবাইল, স্যাটেলাইট এবং ওয়্যারলেস যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। দুর্গম এলাকাগুলিতেও যাতে দ্রুত খবর আদানপ্রদান করা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
একদিকে নবান্ন যখন নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটকর্মীদের জন্য জারি করেছে কঠোর গাইডলাইন। যেমন -
নিরপেক্ষতা: ভোটকর্মীদের সর্বদা নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর থেকে উপহার বা সুবিধা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
মক পোল: ভোট শুরুর আগে মক পোল করা বাধ্যতামূলক। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে।
তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট: কোনও অনিয়ম দেখা দিলে ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সিইও দফতরকে জানাতে হবে।
ভোটের মুখে নবান্ন এবং কমিশনের এই সাঁড়াশি অভিযান কি পারবে বাংলায় হিংসামুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে? উত্তর মিলবে আগামী সপ্তাহগুলিতেই।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন