ময়মনসিংহ: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অন্যতম বীভৎস নজির ছিল পেশায় শ্রমিক দীপু দাসের প্রকাশ্য ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড! তাঁকে পিটিয়ে খুন করার পর দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সেই শিউরে ওঠা ঘটনায় এবার নয়া মোড়। তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মহম্মদ মাসুমকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল বাংলাদেশের হাইকোর্ট! খুনের দায় স্বীকার করার পরও অভিযুক্তের এই মুক্তিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নিহতের পরিবার।
মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে ভালুকার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন এলাকায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় কারখানা শ্রমিক দীপু দাসকে। অভিযোগ, উন্মত্ত জনতা তাঁকে পিটিয়ে মারার পর টেনে-হিঁচড়ে একটি গাছে ঝোলায় এবং দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়! এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
গত ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজি মহম্মদ ইজারুল হক আনন্দ এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জোবায়েরের ডিভিশন বেঞ্চ মহম্মদ মাসুমের এক বছরের জামিন মঞ্জুর করে। মাসুমের বিরুদ্ধে হত্যা এবং লাশ গুম করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা ছিল। হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জামিনের ছাড়পত্র প্রদান করেন।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে ১২ জন নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। জামিন পাওয়া মাসুমও সেই স্বীকারোক্তিকারী তালিকায় ছিল। দীপু দাসের ভাই সংবাদমাধ্যমের কাছে কান্নাভেজা গলায় প্রশ্ন তুলেছেন:
"যে নিজে খুনের কথা কবুল করল, সে কী করে জামিন পায়? আমরা কি তবে কোনোদিন বিচার পাব না?"
বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ধরণের চাঞ্চল্যকর মামলায় জামিন পাওয়ায় বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত চলাকালীন প্রধান আসামীর বাইরে চলে আসা সাক্ষীদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে দীপু দাসের পরিবার।
বিষয় : Murder Bangladesh bail

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন