Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পুলিশের উর্দিতে লাগল ডিমের কুসুম! মাথায় টুপি দিয়ে বারাসত কোর্টে চোর-চোর স্লোগানের মুখে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬
পুলিশের উর্দিতে লাগল ডিমের কুসুম! মাথায় টুপি দিয়ে বারাসত কোর্টে চোর-চোর স্লোগানের মুখে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ
ছবি সংগৃহীত

বারাসত: রক্ষাকবচ হারনোর পর গ্রেফতার হওয়া বিধাননগরের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে আদালতে তোলা ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল বারাসত কোর্টে। মহুয়া মৈত্রের পর এবার ডিম-বর্ষণেরTarget হলেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ এই যুব নেতা। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করার সময় চারদিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এল ডিম। যদিও কড়া পুলিশি পাহারার কারণে দেবরাজের গায়ে ডিম লাগেনি, কিন্তু সেই ডিমের খাঁড়া গিয়ে পড়ল খোদ আইনরক্ষকদের ওপর। পুলিশের গাড়ি থেকে শুরু করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উর্দিতে লেপ্টে গেল ডিমের কুসুম। এই নজিরবিহীন উত্তেজনা আর চোর-চোর স্লোগানের মাঝেই মুখ লুকাতে মাথায় টুপি গলিয়ে কোনো রকমে আদালতের ভেতর ঢুকে যান ধৃত কাউন্সিলর।


এ দিন দেবরাজ চক্রবর্তীকে বারাসত আদালতে আনা হবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে আদালত চত্বরে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু কৌতূহলী মানুষ। তাঁদের মধ্যেই অনেকে আগে থেকে ডিম হাতে ওত পেতে বসেছিলেন। পুলিশের প্রিজন ভ্যানটি আদালত চত্বরে ঢুকতেই চারদিক থেকে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। জানালার কাচ বন্ধ থাকলেও ক্ষিপ্ত জনতার হাত থেকে রেহাই পায়নি পুলিশের গাড়িটি। গাড়ির বনেটে, ছাদে আছড়ে পড়ে একের পর এক ডিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তবে আসামিকে বাঁচাতে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা এবং কড়া নিরাপত্তা দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদালতের আইনজীবীদের একাংশ। আইনজীবী মিলি বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরা তো আসামি, চুরি করেছে, কাটমানি খেয়েছে। আজ এই বড় মাপের চোরকে প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য পুলিশ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”'


অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে তালা! সাংবাদিকদের কাজে বাধার অভিযোগ


নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্টও তলব করেছে। তবে এই ডিম-বর্ষণের আবহেও দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির খতিয়ান দেখে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তি বেনামে এবং নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সী এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ।


বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ এলাকায় কার্যত একচ্ছত্র প্রভাবশালী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তি রাখা, আসল তথ্য গোপন করা এবং অর্থপাচারের (Money Laundering) মতো একাধিক গুরুতর ধারায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী হলফনামায় নিজের সম্পত্তির পরিমাণ অনেক কম করে দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিভ্রান্ত করারও মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে অদিতির বিরুদ্ধে। চার মাসের সন্তানের কারণে অদিতি আদালত থেকে সাময়িক রক্ষাকবচ পেলেও, দেবরাজকে যেভাবে কড়া প্রহরায় লকআপে যেতে হলো, তা রাজারহাটের ‘চক্রবর্তী সাম্রাজ্যের’ পতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিষয় : debrajchakraborty barasatcourt CORRUPTIONSCAM EGGATTACKONTMC

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


পুলিশের উর্দিতে লাগল ডিমের কুসুম! মাথায় টুপি দিয়ে বারাসত কোর্টে চোর-চোর স্লোগানের মুখে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image
বারাসত: রক্ষাকবচ হারনোর পর গ্রেফতার হওয়া বিধাননগরের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে আদালতে তোলা ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল বারাসত কোর্টে। মহুয়া মৈত্রের পর এবার ডিম-বর্ষণেরTarget হলেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ এই যুব নেতা। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করার সময় চারদিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এল ডিম। যদিও কড়া পুলিশি পাহারার কারণে দেবরাজের গায়ে ডিম লাগেনি, কিন্তু সেই ডিমের খাঁড়া গিয়ে পড়ল খোদ আইনরক্ষকদের ওপর। পুলিশের গাড়ি থেকে শুরু করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উর্দিতে লেপ্টে গেল ডিমের কুসুম। এই নজিরবিহীন উত্তেজনা আর চোর-চোর স্লোগানের মাঝেই মুখ লুকাতে মাথায় টুপি গলিয়ে কোনো রকমে আদালতের ভেতর ঢুকে যান ধৃত কাউন্সিলর।এ দিন দেবরাজ চক্রবর্তীকে বারাসত আদালতে আনা হবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে আদালত চত্বরে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু কৌতূহলী মানুষ। তাঁদের মধ্যেই অনেকে আগে থেকে ডিম হাতে ওত পেতে বসেছিলেন। পুলিশের প্রিজন ভ্যানটি আদালত চত্বরে ঢুকতেই চারদিক থেকে ‘গো ব্যাক’ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। জানালার কাচ বন্ধ থাকলেও ক্ষিপ্ত জনতার হাত থেকে রেহাই পায়নি পুলিশের গাড়িটি। গাড়ির বনেটে, ছাদে আছড়ে পড়ে একের পর এক ডিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তবে আসামিকে বাঁচাতে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা এবং কড়া নিরাপত্তা দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদালতের আইনজীবীদের একাংশ। আইনজীবী মিলি বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরা তো আসামি, চুরি করেছে, কাটমানি খেয়েছে। আজ এই বড় মাপের চোরকে প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য পুলিশ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”'অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে তালা! সাংবাদিকদের কাজে বাধার অভিযোগনির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্টও তলব করেছে। তবে এই ডিম-বর্ষণের আবহেও দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির খতিয়ান দেখে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তি বেনামে এবং নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সী এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ।বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ এলাকায় কার্যত একচ্ছত্র প্রভাবশালী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তি রাখা, আসল তথ্য গোপন করা এবং অর্থপাচারের (Money Laundering) মতো একাধিক গুরুতর ধারায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী হলফনামায় নিজের সম্পত্তির পরিমাণ অনেক কম করে দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিভ্রান্ত করারও মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে অদিতির বিরুদ্ধে। চার মাসের সন্তানের কারণে অদিতি আদালত থেকে সাময়িক রক্ষাকবচ পেলেও, দেবরাজকে যেভাবে কড়া প্রহরায় লকআপে যেতে হলো, তা রাজারহাটের ‘চক্রবর্তী সাম্রাজ্যের’ পতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার