কলকাতা: রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য অবশেষে এল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর। দীর্ঘ প্রায় চার বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে পুনরায় চালু হলো শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত বহুল চর্চিত ‘উৎসশ্রী পোর্টাল’। বুধবার থেকেই স্কুলশিক্ষা দফতরের এই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষকেরা নতুন করে বদলির আবেদন জমা করতে পারছেন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া শিক্ষক মহলে। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ কিছু পরিস্থিতির কারণে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে জেনারেল বা স্পেশ্যাল গ্রাউন্ডে বদলির আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্কুলগুলিতে শিক্ষক ও গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেও বেশ কিছুদিন তা বন্ধ থাকে। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী এই পোর্টাল ফের সচল করায় দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।
শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষক সংগঠনগুলি স্বাগত জানালেও, এর সমান্তরালে দানা বাঁধতে শুরু করেছে এক নতুন বিতর্ক ও আশঙ্কা। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি এক বড়সড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ভরদুপুরে হামলা!
তাঁর মতে, ২০২১ সাল থেকে যাঁদের বদলির আবেদন জমা পড়ে রয়েছে কিন্তু এখনও কোনো মীমাংসা হয়নি, তাঁদের বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখা উচিত। পুরনো আবেদনগুলির ফয়সালা না করে নতুন করে পোর্টাল খুললে আবার নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর শুধু আপস-বদলির (মিউচুয়াল ট্রান্সফার) আবেদন নেওয়া হলেও এবং তা ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত চললেও বাস্তবে কোনো বদলি করা হয়নি। ফলে সেই বিপুল পরিমাণ পুরনো আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অনলাইন পোর্টাল চালুর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীও। সব ধরনের বদলি প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট দাবি তুলেছেন যে, এই বদলি প্রক্রিয়ায় যেন কোনোভাবেই দুর্নীতির ছায়া না পড়ে। শিক্ষকদের তাঁদের নিজস্ব জেলায় ফেরার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলগুলির সমস্ত শূন্যপদ যাতে দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়, সেই আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই আশা প্রকাশ করেছেন যে, দূরবর্তী জেলায় কর্মরত থাকার কারণে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা যে চরম পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতেন, পোর্টাল খোলায় এবার দ্রুত সেই কষ্টের অবসান হবে। এখন দেখার, পুরনো জট কাটিয়ে শিক্ষা দফতর কতটা স্বচ্ছতার সাথে এই বিপুল বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন