কলকাতা: ধর্মতলায় জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা, ঝুলছে আদালতের নোটিসও— তবু পিছু হটতে নারাজ মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির। ‘শহিদ দিবস’ পালন হবেই হবে, এই মর্মে সাফ বার্তা দিয়েছেন দলের শীর্ষনেতারা। তবে কোন নির্দিষ্ট জায়গায় এই মেগা সমাবেশ হতে চলেছে, তা নিয়ে এখনও রহস্যের কুয়াশা কাটেনি। এর মাঝেই বুধবার দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাস হলে আয়োজিত এক জমকালো কর্মিসভা থেকে আগামী ২১ জুলাই সকালে হাজরা মোড়ে এক বিশাল জমায়েতের ডাক দিয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র ও দোলা সেনদের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর কলকাতার জন্য আরেকটি কর্মিসভা ডেকে সম্ভবত হেদুয়ার মোড়েও জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও দোলা সেনদের স্পষ্ট দাবি, বাধা আসলেও তাঁরা শহিদ তর্পণ থেকে পিছিয়ে আসবেন না।
পরিস্থিতি জটিল হয়েছে কারণ, গত ২ জুলাই থেকে আগামী ৩০ অগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ দিনের জন্য ধর্মতলাসহ মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ প্রশাসন। তার ওপর, ২০১৮ সালের হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে রাস্তা আটকে ২০২৫ সালেও শহিদ দিবস পালনের অভিযোগে তৃণমূলকে সম্প্রতি কড়া নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। এত আইনি ও প্রশাসনিক গেরো সত্ত্বেও কেন অনড় তৃণমূল? দলের অন্দরের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও গোটা পরিস্থিতির জল মাপছেন। তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা চালাচ্ছেন যে কীভাবে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে বা বিকল্প কোনো পথে এই কর্মসূচিকে সফল করা যায়। কারণ ২১ জুলাই থেকে পিছিয়ে আসার অর্থ হবে ‘দিদি’র দমে যাওয়া, যা তাঁর রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না। বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড ময়দানের কথা ভাবা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠ ভরানো নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে নেতৃত্বের মনে।
এই মহাসমাবেশের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে ছড়াচ্ছে অন্য এক চাঞ্চল্যকর খবর। শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কর্মীদের সংগঠিত করার অপরাধে ২১ জুলাইয়ের আগেই তাঁকে বা অন্য নেতাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে গ্রেফতারি দিয়ে যে তৃণমূলের ঢেউ আটকানো যাবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, দলের পুরনো ও বসে যাওয়া কর্মীরাই এবার সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত। এদিকে মমতাপন্থী শিবিরের সমান্তরালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও ২১ জুলাই কর্মসূচি করার কথা ঘোষণা করেছে। তবে তারা প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাতে যেতে নারাজ। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই আলোচনার মাধ্যমে তাঁরা কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা স্থির করে ফেলবেন। ফলে, শেষ পর্যন্ত ধর্মতলার জট কাটে নাকি অন্য কোনো নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন