কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই চরম ডামাডোল চলছে টলিপাড়ায়। এবার টালিগঞ্জের সেই অচলাবস্থা কাটাতে গিয়ে খোদ শাসকদলের অন্দরেই বেঁধে গেল চরম সংঘাত। গত মাসের শুরুতে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টলিউডের পুরনো ফেডারেশন ভেঙে ‘Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation’ বা EIMPCC নামক একটি নতুন কনফেডারেশনের ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সেই সংগঠনে একপ্রকার জল ঢেলে দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, টলিউডের এই ধরনের কোনো সংগঠনের সঙ্গে বিজেপির দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের পরই টলিপাড়ার সমীকরণ আমূল বদলে গিয়েছে, এবং ঘুরপথে সভাপতির বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেই তড়িঘড়ি ৭ জনের একটি ‘অস্থায়ী কমিটি’ ঘোষণা করে দিয়েছেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী।
শমীক ভট্টাচার্য কনফেডারেশনের সঙ্গে দলের যোগ অস্বীকার করার পরেই মঙ্গলবার থেকে টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ শিল্পী ও কলাকুশলীরা ফর্ম বিলির সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, অরূপ বিশ্বাসের একটি অফিস দখল করে গত তিন সপ্তাহ ধরে টলিউডে বিজেপির নতুন সংগঠন দাবি করে গিল্ডের সদস্যদের কাছে ৭০০ টাকা করে ফর্ম বিক্রি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে পাপিয়া অধিকারী দাবি করেছেন, অর্থের বিনিময়ে কোনো ফর্ম বিলি করা হয়নি। রাজ্য বা দলের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা না করেই, স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে টলিউড নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি এই অস্থায়ী কমিটি গড়েছেন। এই কমিটিতে অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, পরিচালক অতনু বসু, চিত্রগ্রাহক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিল্প নির্দেশক উজ্জ্বল সরকার-সহ সাতজন রয়েছেন। পাপিয়ার দাবি, ফেডারেশনহীন টলিউডে স্বরূপ বিশ্বাসের দল এখনও জোরজুলুম করছে এবং যে যেমন খুশি কাজ করছে, যা বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।
পাপিয়া অধিকারীর এই অনড় মনোভাবে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যেখানে সোমবারই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, কনফেডারেশন নামের কোনো সংগঠনের দলীয় স্বীকৃতি নেই, সেখানে তড়িঘড়ি এই কমিটি গঠন কি সভাপতির নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো? এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তিনি রাজ্য সভাপতির বক্তব্যকে সমর্থন করে জানান, কনফেডারেশনের কোনো দলীয় অস্তিত্ব বা স্বীকৃতি আগেও ছিল না, এখনও নেই। তাঁর মতে, রাজ্য শ্রম আইনকে মর্যাদা দিয়েই টলিউডের স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত সরকারি স্তরে কমিটি গড়ার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারীকে টলিউডের হাল ফিরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এই অচলাবস্থা কাটাতে কী বড় পদক্ষেপ নেয় এবং টলিপাড়ার এই গোষ্ঠীতন্দু কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন