সাংসদ-বিধায়করা সব ‘বিদ্রোহী’, প্রতীক বাঁচানোই দায়! একুশে জুলাইয়ের আগে অস্তিত্ব রক্ষায় মমতার নতুন স্লোগান ‘আমরা বেইমান নই’
কলকাতা: লক্ষ লক্ষ কর্মীর মহাসমাবেশ, জাঁকজমক আর বিরোধী শিবির থেকে মেগা যোগদানের চেনা ছবি এবার অতীত! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন উত্তর আবহে এবারের একুশে জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ কালীঘাট তৃণমূলের কাছে আর কোনো উৎসব নয়, বরং দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ মরণপণ হাতিয়ার। একদা যে দল ভাঙানোর খেলায় তৃণমূল সিদ্ধহস্ত ছিল, আজ সেই একই অস্ত্রের আঘাতে কার্যত ছিন্নভিন্ন খোদ জোড়াফুল শিবির। দলের সিংহভাগ সাংসদ এবং বিধায়ক এখন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী। এমনকি দলের প্রতীক বাঁচানোই এখন কালীঘাটের কাছে সবথেকে বড় ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম মহাসংকটে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ নিচুতলার কর্মীদের আবেগকে হাতিয়ার করে সংগঠন বাঁচাতে এবার একুশের মঞ্চে এক সম্পূর্ণ নতুন স্লোগান আনতে চলেছে তৃণমূল, আর সেই নতুন মন্ত্র হলো— ‘আমরা বেইমান নই।’[TECHTARANGA-POST:10263]এই মুহূর্তে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলত্যাগী ও বিদ্রোহীদের কড়া মোকাবিলা করা। তাই দলের যে সমস্ত অনুগত নেতা-কর্মী দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, অথচ ক্ষমতার লোভে এতদিন দলের অন্দরেই সঠিক সম্মান বা কাজ করার সুযোগ পাননি, এবার তাঁদেরই একুশের সমাবেশে সামনের সারিতে এনে সংগঠনের ভাঙা বাঁধুনি শক্ত করতে চাইছে কালীঘাট। আর এই ড্যামেজ কন্ট্রোলের মাস্টারপ্ল্যান বৃহস্পতিবার থেকেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাচ্ছে। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিদায়ী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন স্পষ্টতই বিদ্রোহী শিবিরে। তাঁর অপসারণের পর উত্তর কলকাতার নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষের কাঁধেই এসেছে এই গুরুদায়িত্ব। কুণাল ঘোষের উদ্যোগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতায় ‘আমরা বেইমান নই’ ব্যানারে এক মেগা প্রস্তুতি সভার ডাক দেওয়া হয়েছে।তারাতলায় লাশের মিছিলউত্তর কলকাতার সংগঠনকে খোলনলচে বদলে ফেলে বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা দিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন কুণাল ঘোষ। দলের নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “যারা বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছেন, অথচ রাজকীয় ডালপালা মেলানো নেতাদের দাপটে কোনোদিন প্রাপ্য সম্মান পাননি, এবারের একুশের সমাবেশ মূলত তাঁদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়ক ও সাংসদদের বড় অংশ দল ছাড়ায় তৃণমূল এখন খাদের কিনারায়। এই অবস্থায় একুশের মঞ্চকে ব্যবহার করে সাধারণ কর্মীদের মনে ‘আবেগের টনিক’ দিয়ে দল টিকিয়ে রাখার এই মরিয়া চেষ্টা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।