কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচারপর্বে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে প্রায় প্রতিদিন তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নামের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে বারবার তাঁকে ‘ভ্যানিশ’ কুমার বলে খোঁচা দিতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার ক্ষেত্রেও সামনের সারিতে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
কিন্তু কালের কী অদ্ভুত চক্র! এবার সেই ‘ভ্যানিশ’ কুমার তথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হাতেই নির্ধারিত হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর কালীঘাট শিবিরের রাজনৈতিক ভাগ্য। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের রাশ সম্পূর্ণ কেড়ে নিতে এবার দিল্লির নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের দরবারে হাজির হচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা।
ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে কী বললেন অগ্নিমিত্রা পল?
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়ে ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের দাবি, দল এবং প্রতীক কোনোটিই এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে নেই। ইতিমধ্যেই কলকাতার সিইও (CEO) অফিসে গিয়ে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ বিধায়ক তথা তাঁদের গঠিত বিশেষ কমিটির সদস্যরা সমস্ত আইনি নথি জমা দিয়ে এসেছেন। সেই রেশ টেনেই দিল্লির নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঠিক বেলা ১২টার সময় ঋতব্রতপন্থীদের ১০ সদস্যের একটি হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দল দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে দেখা করবেন। এই মেগা বৈঠকের জন্য বুধবার বিকেলেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিরা। জ্ঞানেশ কুমারের হাতে নথিপত্র তুলে দিয়ে ঘাসফুল প্রতীক ও দলের সমস্ত তহবিলের ওপর নিজেদের আইনি অধিকার দাবি করতে চলেছেন তাঁরা।
ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবীদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। চলতি মাসেই কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে দলের জাতীয় কর্মসমিতির একটি বিশেষ বৈঠক ডেকেছিলেন বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের বিরোধী নেতৃত্বরা। সেখানেই তৃণমূলের সর্বোচ্চ চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বসম্মতিক্রমে সরিয়ে প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সাথে গঠন করা হয়েছে ৩০ সদস্যের একটি শক্তিশালী কার্যকরী কমিটি।
টাকির ইছামতীর পাড়ে বেআইনি হোটেলে বুলডোজার, আদালতের নির্দেশে শুরু ভাঙার কাজ
দিল্লির নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিশেষ অধিবেশনের পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘মিনিটস’ ও ভিডিও প্রমাণ জমা দেবে ঋতব্রত শিবির। তাঁদের যুক্তি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন ধরে আগে যে কর্মসমিতি গঠিত হয়েছিল, তার আইনি মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার নেতৃত্বাধীন পুরনো কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। শুধু পরিষদীয় দলই নয়, দলের মূল সংগঠন ও সিংহভাগ নেতা-কর্মীও যে তাঁদের দিকেই রয়েছেন, তা জ্ঞানেশ কুমারের সামনে প্রমাণ করতে কোমর বেঁধে নামছেন ঋতব্রতরা, যা কালীঘাটের অন্দরে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন