বাড়ি ফিরে নেইমারের খেলা দেখার স্বপ্ন ছিল, তার আগেই মৃত্যু! মিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ দেখার জন্য দিন গুনছিল সে। প্রিয় দল ব্রাজিল, প্রিয় ফুটবলার নেইমার। ৩ জুলাই স্কুল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরে রাত জেগে খেলা দেখার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীনই মৃত্যু হল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মধ্যমগ্রামের বঙ্কিমপল্লিতে।পরিবারের দাবি, স্কুলে একটি ফ্লাস্ক থেকে সরাসরি গরম চা খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে দীপ্তাংশু। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তবে পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পরও মিশন কর্তৃপক্ষ দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, বরং পরিবারের সদস্যদের আসার জন্য অপেক্ষা করা হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। দীপ্তাংশুর বাবা মনোরঞ্জন মাহাতো পেশায় আইনজীবী। বর্তমানে তিনি ছেলের দেহ ময়নাতদন্তের পর বাড়িতে আনার প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত। তিন বছর আগে মা-কে হারিয়েছে দীপ্তাংশু। এখন পরিবারে রয়েছেন তাঁর দিদি মঞ্জিমা মাহাতো, যিনি ভাইয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, "ভাই অসুস্থ হওয়ার পর যদি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে হয়তো আজ এই পরিণতি দেখতে হতো না।"মঞ্জিমা জানান, কয়েকদিন ধরেই ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিল দীপ্তাংশু। ৩ জুলাই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। বাড়িতে ফিরেই বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখবে এমন কথাই পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিল সে। বাবার মোবাইলে কিছুক্ষণ বিশ্বকাপের খেলাও দেখেছিল বলে জানিয়েছেন দিদি। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বাবার কাঁধে মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে পরিবারের দাবি। মধ্যমগ্রামের নবনালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি হয়েছিল দীপ্তাংশু। আগামী বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল তার। পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতিও ছিল প্রবল টান। সেই ছেলেটির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, প্রতিবেশী এবং বন্ধুরা।পেলে-ক্লোজের রেকর্ড ধুলিসাৎ! মেসিকে কীভাবে টেক্কা দিচ্ছেন এমবাপে?পরিবারের দাবি, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আপনার মতামত লিখুন