নয়া দিল্লি: শেষরক্ষা হলো না নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর। বয়সের ভার আর অসুস্থতাকে হাতিয়ার করে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার যে শেষ চেষ্টা তিনি করেছিলেন, তা ধোপে টিকল না। শীর্ষ আদালত আসারামের সেই জামিনের আর্জি স্পষ্ট খারিজ করে দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে রাজস্থান সরকারের কাছে একটি জবাব তলব করেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলায় জামিনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা কোনো তাড়াহুড়ো না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখতে চায়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে, যখন যোধপুরের নিজস্ব আশ্রমে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। সেই বছরই আগস্ট মাসে ইন্দোর থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৮ সালে রাজস্থান হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চ আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাবাসের সাজা শোনায়। সেই থেকে যোধপুর জেলের অন্ধকারেই দিন কাটছে এই অপরাধীর। এর আগে বহুবার প্যারোলে মুক্তি পেলেও এবং হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দফায় দফায় জামিনের তদ্বির করলেও, তাঁর অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে কোনো আদালতই তাঁকে রেহাই দেয়নি। এবারও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, সরকার পক্ষের বয়ান না শুনে কোনোভাবেই জামিন মঞ্জুর করা যাবে না।
২১ জুলাই নিয়ে কলকাতা পুলিশের বার্তা, কী বললেন সিপি?
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে, এখনই এই জামিন মঞ্জুর করার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। রাজ্য সরকারের হলফনামা হাতে পাওয়ার পরই আদালত খতিয়ে দেখবে যে আসারামের জামিন পাওয়ার মতো কোনো গুরুতর বা আপৎকালীন প্রয়োজন রয়েছে কি না। তবে আদালত আসারামকে একটি রাস্তা খোলা রাখতে বলেছে— যদি সত্যিই জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে বা পরিস্থিতি কোনো গুরুতর আকার নেয়, তবে সেই মেডিকেল গ্রাউন্ড বা স্বাস্থ্যের প্রমাণপত্র সহ তিনি পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। এদিকে এই জামিন খারিজের খবরে রাজস্থানের হাসপাতাল ও জেল চত্বরে আসারাম অনুগামীদের ভিড় ও চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন