Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঘরে থাকা ওষুধ আজই ফেলে দিন! পেট ব্যথা থেকে জ্বর—এক ধাক্কায় ১৬টি জনপ্রিয় ওষুধ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র

ঘরে থাকা ওষুধ আজই ফেলে দিন! পেট ব্যথা থেকে জ্বর—এক ধাক্কায় ১৬টি জনপ্রিয় ওষুধ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র
ছবি--প্রতীকী

নয়াদিল্লি: সাধারণ মানুষের অজান্তেই প্রেসক্রিপশন কিংবা ওষুধের দোকান থেকে কিনে আনা চেনা সব ওষুধ এবার চিরতরে উধাও হতে চলেছে বাজার থেকে। রোগীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মোদী সরকার এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল। জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ১৬টি ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) বা মিশ্র উপাদানে তৈরি ওষুধের উৎপাদন, বিক্রি এবং বিতরণের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

এই নিষিদ্ধ তালিকার মধ্যে এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যা জ্বর, সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক, পেটব্যথা, ডায়াবেটিস এমনকি কিছু নামী প্রসাধনী ও ত্বক সংক্রান্ত সমস্যায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করে আসছেন। ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০-এর ২৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে কেন্দ্র এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বিরাট আলোড়ন তৈরি করেছে।

সরকারি সূত্রের খবর, নিষিদ্ধ হওয়া এই ১৬টি ওষুধের সংমিশ্রণ বা কম্বিনেশনের পেছনে কোনও রকম চিকিৎসাগত বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাননি বিশেষজ্ঞরা। দেশের শীর্ষ ড্রাগ বিশেষজ্ঞ কমিটি ‘ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ (DTAB) এবং তার উপ-কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ওষুধগুলির কার্যকারিতা প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ডেটা বা বিজ্ঞানসম্মত তথ্য মেলেনি।


 আসলে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি ২০২১ সাল থেকেই অত্যন্ত গোপনে চলছিল। দীর্ঘ গবেষণার পর এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির যুক্তি খারিজ করে দিয়ে অবশেষে গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে উপ-কমিটি এই ওষুধগুলি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সুপারিশ জানায়। সরকারের সাফ কথা, যে ওষুধ রোগীকে অতিরিক্ত উপকার দেয় না, উল্টে শরীরে সুপ্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তা কোনওভাবেই বাজারে রাখা হবে না।


বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বেশি ভুরু কুঁচকেছে বাজারে চলা একাধিক নামী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কম্বিনেশন নিয়ে। কেন্দ্রের নিষিদ্ধ তালিকায় সটান ঢুকে পড়েছে Amoxicillin Serratiopeptidase, Cefuroxime Serratiopeptidase, এবং Cefadroxyl + Probenecid-এর মতো হাই-প্রোফাইল অ্যান্টিবায়োটিক জোড়গুলি। চিকিৎসকদের মতে, এই উপাদানগুলি একসঙ্গে দেওয়ার কোনও স্পষ্ট উপকারিতা প্রমাণিত নয়। শুধু অ্যান্টিবায়োটিকই নয়, পেটব্যথা ও পেটের খিঁচুনির জন্য চটজলদি আরাম দেওয়া অতি পরিচিত Dicyclomine + Paracetamol + Clidinium Bromide-এর কম্বিনেশনটিকেও চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত Gliclazide + Chromium Picolinate-এর মিশ্রণটির ওপরেও কোপ পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্তরের কোনও স্বীকৃত চিকিৎসা গাইডলাইনেই ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে Chromium Picolinate ব্যবহারের ন্যূনতম সুপারিশ নেই। ফলে নিরাপদ ও যুক্তিযুক্ত চিকিৎসাব্যবস্থা কায়েম করতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষয় : centralgovernment HealthAlert medicinebanned fdcban

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


ঘরে থাকা ওষুধ আজই ফেলে দিন! পেট ব্যথা থেকে জ্বর—এক ধাক্কায় ১৬টি জনপ্রিয় ওষুধ নিষিদ্ধ করল কেন্দ্র

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: সাধারণ মানুষের অজান্তেই প্রেসক্রিপশন কিংবা ওষুধের দোকান থেকে কিনে আনা চেনা সব ওষুধ এবার চিরতরে উধাও হতে চলেছে বাজার থেকে। রোগীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মোদী সরকার এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল। জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ১৬টি ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) বা মিশ্র উপাদানে তৈরি ওষুধের উৎপাদন, বিক্রি এবং বিতরণের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই নিষিদ্ধ তালিকার মধ্যে এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যা জ্বর, সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক, পেটব্যথা, ডায়াবেটিস এমনকি কিছু নামী প্রসাধনী ও ত্বক সংক্রান্ত সমস্যায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করে আসছেন। ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০-এর ২৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে কেন্দ্র এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে এক বিরাট আলোড়ন তৈরি করেছে।সরকারি সূত্রের খবর, নিষিদ্ধ হওয়া এই ১৬টি ওষুধের সংমিশ্রণ বা কম্বিনেশনের পেছনে কোনও রকম চিকিৎসাগত বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাননি বিশেষজ্ঞরা। দেশের শীর্ষ ড্রাগ বিশেষজ্ঞ কমিটি ‘ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ (DTAB) এবং তার উপ-কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ওষুধগুলির কার্যকারিতা প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ডেটা বা বিজ্ঞানসম্মত তথ্য মেলেনি। আসলে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি ২০২১ সাল থেকেই অত্যন্ত গোপনে চলছিল। দীর্ঘ গবেষণার পর এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির যুক্তি খারিজ করে দিয়ে অবশেষে গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে উপ-কমিটি এই ওষুধগুলি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সুপারিশ জানায়। সরকারের সাফ কথা, যে ওষুধ রোগীকে অতিরিক্ত উপকার দেয় না, উল্টে শরীরে সুপ্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তা কোনওভাবেই বাজারে রাখা হবে না।বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বেশি ভুরু কুঁচকেছে বাজারে চলা একাধিক নামী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কম্বিনেশন নিয়ে। কেন্দ্রের নিষিদ্ধ তালিকায় সটান ঢুকে পড়েছে Amoxicillin ও Serratiopeptidase, Cefuroxime ও Serratiopeptidase, এবং Cefadroxyl + Probenecid-এর মতো হাই-প্রোফাইল অ্যান্টিবায়োটিক জোড়গুলি। চিকিৎসকদের মতে, এই উপাদানগুলি একসঙ্গে দেওয়ার কোনও স্পষ্ট উপকারিতা প্রমাণিত নয়। শুধু অ্যান্টিবায়োটিকই নয়, পেটব্যথা ও পেটের খিঁচুনির জন্য চটজলদি আরাম দেওয়া অতি পরিচিত Dicyclomine + Paracetamol + Clidinium Bromide-এর কম্বিনেশনটিকেও চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত Gliclazide + Chromium Picolinate-এর মিশ্রণটির ওপরেও কোপ পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্তরের কোনও স্বীকৃত চিকিৎসা গাইডলাইনেই ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে Chromium Picolinate ব্যবহারের ন্যূনতম সুপারিশ নেই। ফলে নিরাপদ ও যুক্তিযুক্ত চিকিৎসাব্যবস্থা কায়েম করতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার