Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘কাল গেলে আমিও থাকতাম না…’ তারাতলা বিপর্যয় থেকে অলৌকিক রক্ষা নীলা দেবীর

 ‘কাল গেলে আমিও থাকতাম না…’ তারাতলা বিপর্যয় থেকে অলৌকিক রক্ষা নীলা দেবীর
AI GENERATED IMAGE

তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার দিন, সকালটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। বেলা তখন ১২টা ৭ মিনিট। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে এটা কোনো প্রাকৃতিক কম্পন নয়, বরং এক ভয়ঙ্কর নির্মাণ বিপর্যয়।


বিশাল নির্মীয়মাণ কাঠামো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তেই চাপা পড়ে যান একাধিক শ্রমিক। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার, আতঙ্ক আর দৌড়াদৌড়ি। কেউ প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন, কেউ খুঁজছেন পরিচিত মুখকে। সেই মুহূর্তের ভিড়েই বদলে গেল জীবনের সমীকরণ - রক্ষা পেলেন নীলা দেবী। 


খিদিরপুরের হাইড রোড এলাকার বাসিন্দা নীলা দীর্ঘদিন ধরে ওই গোডাউনে জল সরবরাহের কাজ করতেন। প্রায় সাত-আট মাস ধরে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে। কিন্তু ঘটনার ঠিক আগের দিনই হঠাৎ তাঁর কাজের রুটিন বদলে যায়। নিজের কিছু ব্যক্তিগত কাজে তিনি সেদিন সেখানে যাননি। তাঁর পরিবর্তে কাজ করতে যান সহকর্মী বোদন মুন্ডা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনিও সেই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


১০ লক্ষের কেলেঙ্কারি নয়, ৩০০ প্লটের জাল বিছিয়েছিলেন অভিষেকের পিএ!


নিজের বেঁচে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে নীলা দেবীর কথায়, “যদি সেদিন আমি যেতাম, আমিও হয়তো আজ হাসপাতালে থাকতাম। সত্যিই ভাগ্য আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।” প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার উপার্জনে সংসার চালানো নীলা জানান, জীবিকার তাগিদেই ঝুঁকি নিয়েই ওই জায়গায় কাজ করতে হতো।


তাঁর কথায়, আগে থেকেই নাকি ওই নির্মাণস্থলের কাঠামোয় অস্বাভাবিক কম্পন অনুভূত হতো, তবে কাজ থামেনি। এদিকে তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত অবস্থায় ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর গোডাউনের মালিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

বিষয় : WestBengalNews naturaldisaster humaninterest taratalaincident survivorstory

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


‘কাল গেলে আমিও থাকতাম না…’ তারাতলা বিপর্যয় থেকে অলৌকিক রক্ষা নীলা দেবীর

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image
তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার দিন, সকালটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। বেলা তখন ১২টা ৭ মিনিট। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে এটা কোনো প্রাকৃতিক কম্পন নয়, বরং এক ভয়ঙ্কর নির্মাণ বিপর্যয়।বিশাল নির্মীয়মাণ কাঠামো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তেই চাপা পড়ে যান একাধিক শ্রমিক। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার, আতঙ্ক আর দৌড়াদৌড়ি। কেউ প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন, কেউ খুঁজছেন পরিচিত মুখকে। সেই মুহূর্তের ভিড়েই বদলে গেল জীবনের সমীকরণ - রক্ষা পেলেন নীলা দেবী। খিদিরপুরের হাইড রোড এলাকার বাসিন্দা নীলা দীর্ঘদিন ধরে ওই গোডাউনে জল সরবরাহের কাজ করতেন। প্রায় সাত-আট মাস ধরে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে। কিন্তু ঘটনার ঠিক আগের দিনই হঠাৎ তাঁর কাজের রুটিন বদলে যায়। নিজের কিছু ব্যক্তিগত কাজে তিনি সেদিন সেখানে যাননি। তাঁর পরিবর্তে কাজ করতে যান সহকর্মী বোদন মুন্ডা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনিও সেই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।১০ লক্ষের কেলেঙ্কারি নয়, ৩০০ প্লটের জাল বিছিয়েছিলেন অভিষেকের পিএ!নিজের বেঁচে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে নীলা দেবীর কথায়, “যদি সেদিন আমি যেতাম, আমিও হয়তো আজ হাসপাতালে থাকতাম। সত্যিই ভাগ্য আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।” প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার উপার্জনে সংসার চালানো নীলা জানান, জীবিকার তাগিদেই ঝুঁকি নিয়েই ওই জায়গায় কাজ করতে হতো।তাঁর কথায়, আগে থেকেই নাকি ওই নির্মাণস্থলের কাঠামোয় অস্বাভাবিক কম্পন অনুভূত হতো, তবে কাজ থামেনি। এদিকে তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত অবস্থায় ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর গোডাউনের মালিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার