কলকাতা: কলকাতার তারাতলার বুকে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
স্নিফার ডগ নিয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি, উদ্ধার অভিযানে এনডিআরএফ
প্রথম থেকেই এই গোটা ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানান, বুধবার দুপুরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় সেনা, এনডিআরএফ ও দমকলের যৌথ ‘অপারেশন’ এখনও জারি রয়েছে।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বুধবার দুর্ঘটনাস্থলে বিপর্যয় ঘটার ঠিক তিরিশ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে কলকাতা পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত সেখানে নামানো হয় সেনা জওয়ান ও এনডিআরএফ-এর টিম। সরকারের তরফে তড়িঘড়ি দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। নিজে দুপুরে কেন যাননি, সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে তিনি প্রথম থেকেই নবান্ন থেকে গোটা বিষয়টি মনিটরিং করছিলেন, কারণ ভিভিআইপি মুভমেন্ট হলে প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হতে পারত। তাই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিকেলে তিনি নিজে দুর্ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান।
তারাতলার এই হাড়হিম করা ঘটনার নেপথ্যে কার গাফিলতি রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে ইতিমিধ্যেই একটি উচ্চস্তরীয় বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট' (SIT) গঠন করা হয়েছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায় এবং হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্তের নেতৃত্বে একটি দুঁদে টিম এই তদন্তভার হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে অয়ন ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত, জমি লিজ নেওয়া শম্ভুনাথ বেহেরা, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবারক ভাণ্ডারি এবং কেএমসি-তে (KMC) বেআইনি নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের দালালি করা মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই মৃত্যুর মিছিলে আর কার কার হাত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন