নয়াদিল্লি: লাদাখের গলওয়ান সংঘাতের রক্তক্ষয়ী স্মৃতির পর চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পথে, ঠিক তখনই সীমান্ত নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চরম অস্বস্তিতে কেন্দ্র।
ভারত-চিন সীমান্তে সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের একাধিক জায়গায় চিনা সেনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা এখনও জারি রয়েছে। ইন্দোতিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর ডিজি শত্রুজিৎ সিংহ কাপুরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে দিল্লির দরবারে।
চিনের মতো ‘শক্তিশালী শত্রু’র মোকাবিলায় প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের ‘স্থিতিশীলতার’ দাবির উল্টো সুর গেয়ে সীমান্ত বাহিনীর প্রধানের এই মন্তব্য কি এবার নতুন করে বিপাকে ফেলল মোদী সরকারকে?
সম্প্রতি ব্রিক্স সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক কিংবা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সম্পর্ক উন্নতির বার্তার পর কেন্দ্রের দাবি ছিল, নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। গত মাসেই চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রহ্মণ্যম সীমান্ত পরিস্থিতিকে ‘স্থিতিশীল’ বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে জওয়ানদের উদ্দেশে আইটিবিপি প্রধানের বয়ান কেন্দ্রের সেই স্বাভাবিকতার দাবিকেই এক ধাক্কায় কাঠগড়ায় তুলে দাঁড় করাল। কাপুর স্পষ্ট জানান, “গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কিছু এলাকায় মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তা এখনও চলছে।” এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত ‘শৌর্য কমান্ডো’রা অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ডিজির এই মন্তব্য হাতিয়ার করে কালবিলম্ব না করে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের তোপ, চিনা আগ্রাসন নিয়ে মোদী সরকার দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে সুপরিকল্পিতভাবে বেজিংকে ছাড় দিয়ে যাচ্ছে।
গত জুলাই মাস থেকেই অরুণাচল সীমান্ত উত্তপ্ত বলে যে খবর আসছিল, বাহিনীর প্রধানের বক্তব্যে তা সীলমোহর পাওয়ায় জবাবদিহির চাপে পড়েছে সাউথ ব্লক। যদিও সূত্রের দাবি, এটা কোনও নির্দিষ্ট বড় সংঘর্ষ নয়, বরং নিত্যদিনের টহল ও সীমান্তে বাহিনীর মোতায়েন সংক্রান্ত সাধারণ মন্তব্য। কিন্তু চিনের বিরুদ্ধে ২০২৩ ও ২০২৪-এর তুলনায় পরিস্থিতি ভাল দাবি করার মাঝেই এই ‘অব্যাহত সংঘাতের’ তথ্য কেন্দ্রকে চরম রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন