নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়ে গোপনে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার— খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপই করেনি মোদী সরকারের ক্যাবিনেট সচিবালয়। তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) জবাবে এবার প্রকাশ্যে এলো এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
অভিযোগের তির সরাসরি সরকারের দিকে উঠলেও ক্যাবিনেট সচিবালয় নিজেদের পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যাবিনেটের কাছে আসা চিঠি দুটি ছিল ব্যক্তিগত স্তরের, কমিশনের তরফ থেকে কোনো আভিযোগ জমা পড়েনি। ফলে ব্যক্তিগত চিঠির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিলে তা নির্বাচন কমিশনের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল হতো। যদিও সচিবালয় স্বীকার করে নিয়েছে যে, কমিশনারদের তোলা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং তা খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে এটিকে সরকারি অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে। কাজের বণ্টন সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত আদেশ জারি হওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। ওই আদেশে ভোটার তালিকার গুরুত্বপূর্ণ আইটি কাঠামোর ওপর থাকা তদারকির একটি মূল স্তর সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনারদের দাবি, সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এবং প্রচলিত রীতিনীতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই রদবদল করা হয়। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়েই ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পাঠান তাঁরা, যদিও জলঘোলা হওয়ায় পরে আদেশটি বাতিল করতে বাধ্য হয় কমিশন।
পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে ঢাকার চেষ্টা করে দাবি করে, এই চিঠি কোনো নীতিগত বা আইটি সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে ছিল না, বরং কমিশনের এক কর্মকর্তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তবে আরটিআই-এর এই নয়া তথ্যে জল কিন্তু আরো গড়াল। নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থার অভ্যন্তরে কী ঘটছে এবং গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পেয়েও সরকার কেন হাত গুটিয়ে বসে রইল, সেই প্রশ্ন তুলে মোদী সরকারকে বিঁধতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন