কলকাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ঘরে ঘরে শুরু হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনা করে দেবীর পুজো করা হয়। আর দেবীর ভোগে একাধিক পদ নিবেদন করা হয়। তবে সব বাড়িতে একই ধরণের ভোগ দেওয়া হয় না। বাড়ির রীতি অঞ্চল এবং পূর্বপুরুষদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী বদলে যায় নিবেদনের ধরনও।
বাঙালির লক্ষ্মীপুজোয় নিরামিষ ভোগের প্রচলন বহুদিনের। ভোগের থালিতে লুচি, খিচুড়ি, ল্যাবড়া, আলুভাজা, বেগুনভাজা, সুজি, পায়েস, সন্দেশ, ফলমূল এমন নানা পদ সাজানো হয়। অনেক বাড়িতে পাঁচ রকম ভাজা, শাক, চাটনি ও বিভিন্ন মিষ্টিও নিবেদন করা হয়। ভোগের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পায় চিঁড়ে, খই, মুড়কি ও নারকেলের নাড়ু। লক্ষ্মীপুজোর ভোগে নাড়ুর গুরুত্বও বেশ উল্লেখযোগ্য। পরিবারের রীতি অনুযায়ী নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু কিংবা ক্ষীরের নাড়ু তৈরি হয়। আবার খই, মুড়কি ও চিঁড়ের সঙ্গে নারকেল মিশিয়েও ভোগ দেওয়ার চল রয়েছে। সঙ্গে থাকে বাতাসা, ফল ও অন্যান্য মিষ্টান্ন।
তবে লক্ষ্মীপুজোর ভোগ নিয়ে বাঙালির রীতিতে একটি আকর্ষণীয় পার্থক্যও রয়েছে। বিশেষত পূর্ববঙ্গীয় অনেক পরিবারের লক্ষ্মীপুজোয় আমিষ ভোগের প্রচলন রয়েছে। কোথাও ইলিশ মাছ রান্না করে দেবীকে নিবেদন করা হয়, আবার কোথাও গোটা ইলিশ মাছই ভোগ হিসেবে দেওয়ার রীতি রয়েছে। অন্যদিকে, বহু ঘটি পরিবারে নিরামিষ ভোগের চল বেশি। সেখানে দেবীর ভোগের থালা সাজানো হয় নাড়ু, বাতাসা, ফলমূল ও নানা মিষ্টান্ন দিয়েই। মা লক্ষ্মীকে পদ্মফুল, লাল ফুল এবং ধানের শিষ নিবেদন করা হয়। ধান ও শস্যের সঙ্গে দেবী লক্ষ্মীর সম্পর্ক সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিষয় : kojagori lakshmi puja

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন