Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Tibet Earthquake: একের পর এক ঘাতক বিপর্যয়! হিমালয়ের কোলে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে কেন বারবার নেমে আসছে প্রকৃতির অভিশাপ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Tibet Earthquake: একের পর এক ঘাতক বিপর্যয়! হিমালয়ের কোলে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে কেন বারবার নেমে আসছে প্রকৃতির অভিশাপ?
রাতেই শুরু হয় উদ্ধারের কাজ। ছবি : এক্স

বেজিং ও নয়াদিল্লি: এক মাসের ব্যবধানে হিমালয়ের কোলজুড়ে ফের চরম প্রকৃতির তাণ্ডব। অগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে গিয়েছিল দেড় হাজার প্রাণ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত এবং সংলগ্ন চিনা ভূখণ্ড।

প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৩ মিনিটে (স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট)। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.০। চিনের ‘আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টার’ এবং ভারতের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’ (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের পান্ডিন থেকে ৪৮৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎসস্থল। 

তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাগকুর মারু টাউনশিপ এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধ্বংসলীলা চলেছে। প্রথম ধাক্কার ঠিক ৩৯ মিনিট পর, রাত ৮টা ৪২ মিনিটে ফের ৫.০ মাত্রার দ্বিতীয় কম্পনে কেঁপে ওঠে ওই এলাকা। গভীর রাত পর্যন্ত ৪.৫-এর বেশি মাত্রায় একের পর এক ‘আফটার শক’ বা অনুকম্পনে আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে।

চিনা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অন্তত ৫৬ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ৩৩৯টিরও বেশি ঘরবাড়ি। বন্ধ পাহাড়ি রাস্তাঘাট, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। চিন সরকার লেভেল-৩ সতর্কতা জারি করে ৩০০ উদ্ধারকারী পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। তবে আজ, শুক্রবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম পার্বত্য এলাকায় চরম তুষারপাতের পূর্বাভাস উদ্ধারকাজে বড় বাধা হতে পারে বলে আশঙ্কা।

তবে ভূতাত্ত্বিকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বত ও প্রতিবেশি নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান। টেকটনিক প্লেটের ক্রমাগত ঘর্ষণ এবং ভূ-প্রকৃতিগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই অঞ্চল বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঠেলে ঢোকার চেষ্টা করছে। এর ফলে ভূগর্ভে যে বিশাল পরিমাণ শক্তি জমা হয়, তা মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্পের আকারে আত্মপ্রকাশ করে।

ইতিহাস বলছে, গত কয়েক মাসে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে একের পর এক প্রাকৃতিক ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। ২০২৫-এর জানুয়ারিতে তিব্বতের টিংরিতে ৬.২ মাত্রার কম্পনে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপর অগস্টের শেষে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বানে ১,৪০০-র বেশি মানুষের সলিল সমাধি ঘটে। 

হাজার হাজার মানুষ আজও নিখোঁজ, যাঁদের ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়েছেন স্বয়ং নেপালের প্রধানমন্ত্রীও। তার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাড়ে ৫ মাত্রার ভূকম্পন এবং এবার অক্টোবর শেষে ৭ মাত্রার এই মহা-ভূমিকম্প। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, লাগাতার এই ভূমিকম্পের ধাক্কায় পাহাড়ের গায়ে তৈরি হওয়া ঢল ও হিমবাহ ফের ভেঙে পড়ে আবারও এক বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বিষয় : #HiddenStories #HiddenStoriesNews #TibetEarthquake #NepalDisaster #HimalayanCrisis #PlateTectonics #NatureFury #BreakingNewsBengali

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


Tibet Earthquake: একের পর এক ঘাতক বিপর্যয়! হিমালয়ের কোলে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে কেন বারবার নেমে আসছে প্রকৃতির অভিশাপ?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
বেজিং ও নয়াদিল্লি: এক মাসের ব্যবধানে হিমালয়ের কোলজুড়ে ফের চরম প্রকৃতির তাণ্ডব। অগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে গিয়েছিল দেড় হাজার প্রাণ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত এবং সংলগ্ন চিনা ভূখণ্ড।প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৩ মিনিটে (স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট)। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.০। চিনের ‘আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক সেন্টার’ এবং ভারতের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’ (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের পান্ডিন থেকে ৪৮৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎসস্থল। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাগকুর মারু টাউনশিপ এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধ্বংসলীলা চলেছে। প্রথম ধাক্কার ঠিক ৩৯ মিনিট পর, রাত ৮টা ৪২ মিনিটে ফের ৫.০ মাত্রার দ্বিতীয় কম্পনে কেঁপে ওঠে ওই এলাকা। গভীর রাত পর্যন্ত ৪.৫-এর বেশি মাত্রায় একের পর এক ‘আফটার শক’ বা অনুকম্পনে আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে।চিনা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অন্তত ৫৬ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ৩৩৯টিরও বেশি ঘরবাড়ি। বন্ধ পাহাড়ি রাস্তাঘাট, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। চিন সরকার লেভেল-৩ সতর্কতা জারি করে ৩০০ উদ্ধারকারী পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। তবে আজ, শুক্রবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম পার্বত্য এলাকায় চরম তুষারপাতের পূর্বাভাস উদ্ধারকাজে বড় বাধা হতে পারে বলে আশঙ্কা।তবে ভূতাত্ত্বিকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বত ও প্রতিবেশি নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান। টেকটনিক প্লেটের ক্রমাগত ঘর্ষণ এবং ভূ-প্রকৃতিগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই অঞ্চল বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঠেলে ঢোকার চেষ্টা করছে। এর ফলে ভূগর্ভে যে বিশাল পরিমাণ শক্তি জমা হয়, তা মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্পের আকারে আত্মপ্রকাশ করে।ইতিহাস বলছে, গত কয়েক মাসে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে একের পর এক প্রাকৃতিক ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। ২০২৫-এর জানুয়ারিতে তিব্বতের টিংরিতে ৬.২ মাত্রার কম্পনে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপর অগস্টের শেষে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বানে ১,৪০০-র বেশি মানুষের সলিল সমাধি ঘটে। হাজার হাজার মানুষ আজও নিখোঁজ, যাঁদের ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়েছেন স্বয়ং নেপালের প্রধানমন্ত্রীও। তার পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাড়ে ৫ মাত্রার ভূকম্পন এবং এবার অক্টোবর শেষে ৭ মাত্রার এই মহা-ভূমিকম্প। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, লাগাতার এই ভূমিকম্পের ধাক্কায় পাহাড়ের গায়ে তৈরি হওয়া ঢল ও হিমবাহ ফের ভেঙে পড়ে আবারও এক বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত