নয়াদিল্লি: ভারতের রাজনীতি এবং ছাত্র আন্দোলনের অন্দরমহলে এবার সরাসরি বিদেশি শক্তির প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের গন্ধ স্পষ্ট হতে শুরু করল। বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালনকারী এবং পরবর্তী সময়ে ভারত-বিরোধী বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে চর্চায় থাকা ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম এবার সরাসরি দিল্লি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিক্ষোভে ইন্ধন জোগালেন। সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে সিজেপি বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। আর এর ফলেই ওয়াকিবহাল মহলের জোরাল আশঙ্কা, ভারতের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি করার নেপথ্যে যে গভীর বিদেশি যোগ রয়েছে, নাহিদের এই মন্তব্য তা আরও পরিষ্কার করে দিল।
ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর চত্বরে এক ধুন্ধুমার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পুলিশি নিষেধাজ্ঞা ও কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পুলিশ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাকে আটক করলেও দিল্লি জুড়ে এই আন্দোলন খবরের শিরোনামে উঠে আসে। আর ঠিক সেই উত্তাল মুহূর্তেই ওপার বাংলা থেকে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তোলেন বাংলাদেশের ছাত্রনেতা তথা প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ নাহিদ ইসলাম।
নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি অত্যন্ত প্ররোচনামূলক পোস্ট করে তিনি ভারতের ছাত্র বিক্ষোভের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ঘোষণা করেন। নাহিদ লেখেন, ভারতের যুব ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে তাঁদের তরফে পূর্ণ সমর্থন জানানো হচ্ছে। স্বচ্ছ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এই লড়াইকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর দাবি, ব্যারিকেড বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, "সীমান্তের বেড়া ভেঙে আমরাও সঙ্গে আছি"—এই মন্তব্য করে সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর পাশাপাশি আটক ছাত্রনেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও তুলেছেন তিনি। যা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও শোরগোল শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অস্থির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম মুখ নাহিদ ইসলাম যেভাবে ভারতের একটি বিশেষ ছাত্র গোষ্ঠীর আন্দোলনে সমর্থন জুগিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগের। অতীতে শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ বা সংকীর্ণ করিডোর নিয়ে হুমকি দেওয়া নেতার এই বার্তা প্রমাণ করে যে, দেশের অভ্যন্তরে অশান্তি ও অস্থিরতা জিইয়ে রাখতে বিদেশি শক্তিগুলি বারবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। ককরোচ পার্টির এই আন্দোলনের নেপথ্যে যে গভীর ষড়যন্ত্র এবং ভিনদেশি মদদ কাজ করছে, নাহিদের এই টুইট বা বিবৃতি সেই জল্পনাকে শতভাগ সত্যি প্রমাণ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন