শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা শিলিগুড়ি টাউন রেলস্টেশন এবার পেতে চলেছে নতুন চেহারা। প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক স্টেশনকে হেরিটেজ স্টেশনের মর্যাদা দিয়ে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। বৃহস্পতিবার একাধিক পদস্থ আধিকারিক রেল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় থাকা জবরদখলকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। রেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রত্যেককে জায়গা খালি করতে বলা হয়েছে। কোনও অবস্থাতেই স্টেশন চত্বর দখল করে রাখতে দেওয়া যাবে না।’
১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন একসময় উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহাসিক টয় ট্রেনের যাত্রাও শুরু হয়েছিল এই স্টেশন থেকেই। ইতিহাসবিদদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে মহাত্মা গান্ধী— বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের পদচারণাও রয়েছে এই স্টেশনের সঙ্গে জড়িত। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, ‘মূলত প্রাচীন স্টেশনের ভবনের জীর্ণ অংশগুলি সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে দেওয়াল, মেঝে, সিঁড়ি, ছাদ, বারান্দা, দরজা-জানালা ইত্যাদি সংস্কার করা হবে। ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা খরচে কাজ হবে। এ জন্য ১০ মাস সময় লাগবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও রেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে সংরক্ষণ করা হোক। তাঁদের মতে, শহরের ইতিহাস বহনকারী এই স্টেশন শুধুমাত্র একটি রেল অবকাঠামো নয়, বরং উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। সংস্কারের ফলে পর্যটকদের কাছেও নতুন করে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে এই এলাকা। রেলপ্রেমীদের আশা, সংস্কার সম্পূর্ণ হলে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন শুধু যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক ও পর্যটন মানচিত্রেও নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন