দিঘা: পুরনো দিঘার সমুদ্রতট সংলগ্ন এলাকায় থাকা ‘বিশ্ববাংলা’ গ্লোব আর দেখা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা ওই স্থাপনা সম্প্রতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দিঘায় বেড়াতে গিয়ে বিশ্ববাংলা উদ্যানে লোগোর সামনে দাঁড়িয়ে এক সময়ে ছবি-সেলফিও তুলেছেন পর্যটকেরা। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, পর্যটন কেন্দ্র ও পরিকাঠামোয় ‘বিশ্ববাংলা’ ব্র্যান্ডকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। দিঘার ওই গ্লোবও সেই সময়ের অন্যতম পরিচিত চিহ্ন হয়ে উঠেছিল। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো ও প্রতীক সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগেও সল্টলেক স্টেডিয়াম-সহ একাধিক সরকারি প্ল্যাটফর্মে ‘বিশ্ববাংলা’র পরিবর্তে জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভ ব্যবহার করা হয়েছে।
এবার সেই প্রেক্ষাপটেই পুরনো দিঘা থেকে সরানো হল বিশ্ববাংলা গ্লোব। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এটি শুধু একটি স্থাপনা অপসারণ নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তনের প্রতীক। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। পর্যটন মহলের একাংশের বক্তব্য, দিঘার সৌন্দর্যায়নের অংশ হিসেবে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রতীক ও ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও যে পরিবর্তন আসছে, দিঘার এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘বিশ্ববাংলা’র জায়গায় ভবিষ্যতে কী নতুন পরিচয় তুলে ধরা হবে? সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন দিঘাবাসী ও পর্যটকরা।
কাঁথি মহকুমাশাসক ধুমাল প্রতীক অশোক জানিয়েছেন, ‘সরকারি নির্দেশের পরে দিঘার পর্যটনকেন্দ্র থেকে বিশ্ব বাংলার লোগো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। আগামী দিনে রাজ্য সরকারের নতুন কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দেশিকা অনুসারে আবার সাজিয়ে তোলা হবে।’ দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন সরকার তাদের নতুন লোগো অশোক স্তম্ভ বানিয়েছে। আশা করি, সেই লোগো বসানো হবে। তবে যা হবে, তা ভালোই হবে।’

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন