কলকাতা: বাংলার মা-বোনেদের জন্য অবশেষে চলে এলো সেই বহুকাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আজ, বুধবার থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকতে শুরু করছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-র এককালীন ৩,০০০ টাকা। নবান্নের সভাঘর থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে রাজ্যবাসীকে বিরাট সুখবর দিয়েছেন। একই সঙ্গে নবান্নের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আজ থেকেই সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। তবে টাকা ঢোকার এই আনন্দের আবহেই রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, সরকারি কোষাগারের টাকার অপব্যবহার রুখতে ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো আবেদনকারীর নাম একঝটকায় ছেঁটে ফেলা হয়েছে এবং কড়া অডিট প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা '১২ পাতার ফর্ম' বিতর্কের এক্কেবারে যোগ্য জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, গত ২৭ তারিখ থেকেই অফলাইনে ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল এবং আজ থেকে অনলাইনেও ফর্ম ফিলাপ চালু হয়ে গেছে। ১২ পাতার ফর্ম নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই বিশাল ফর্মটি আসলে সাধারণ মানুষের একটি নিখুঁত 'ডেটাবেস' বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার জন্য আনা হয়েছে। ফর্ম ফিলাপ করতে একটু সময় লাগলেও, কেউ যদি ফর্মের সবটা পূরণ করতে নাও পারেন, তবুও তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন না। কারণ, ভবিষ্যতে এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মহিলাদের জন্য আরও একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে আসতে চলেছে নতুন সরকার। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবার সরকারি কর্মীরা খোদ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
নবান্নের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক থেকে অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব নিয়ে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড়সড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত প্রথম দফায় ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন মহিলার অ্যাকাউন্টে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির বিশেষ স্কিমের এই টাকা ঢুকবে। মুখ্যমন্ত্রী খোলসা করেন, এসআইআর (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে, হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ভুয়ো নাম তালিকায় ঢুকে বসে ছিল, যারা আদেও এই দেশের নাগরিক নন! শুভেন্দু অধিকারী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, ওপার বাংলা বা বাংলাদেশ থেকে যাঁরা ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে এ দেশে এসেছেন এবং ইতিপূর্বেই প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার মানুষ সিএএ (CAA)-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন জানিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। কিন্তু যাঁরা সম্পূর্ণ বেআইনি বা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢুকেছেন, তাঁরা কোনওভাবেই এই অন্নপূর্ণা যোজনার ১টি টাকাও পাবেন না। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকা বাধ্যতামূলক।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল স্ক্রুটিনি ও ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটি আগামী তিন মাস ধরে টানা চলবে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে, কিন্তু ভুয়ো নামের বন্যা দেখে সরকার পিছু হঠে নতুন করে ফর্ম ভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। উপভোক্তারা যেমন যেমন ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবেন, সরকারি আধিকারিকরা সেই নথিপত্রগুলি খতিয়ে দেখে সবুজ সংকেত দেওয়া মাত্রই সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা ঢুকে যাবে। ফলে বৈধ ভারতীয় নাগরিক তথা বাংলার প্রকৃত হকদার মহিলাদের অ্যাকাউন্ট যে এবার সরকারি অনুদানে ভরে উঠতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন