Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ত্রাণের আড়ালে অস্ত্র সাম্রাজ্য ও পুলিশের জাল পোশাক! কুলতলিতে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গোপন ডেরায় পুলিশের হানা, উদ্ধার বিপুল কেলেঙ্কারি

ত্রাণের আড়ালে অস্ত্র সাম্রাজ্য ও পুলিশের জাল পোশাক! কুলতলিতে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গোপন ডেরায় পুলিশের হানা, উদ্ধার বিপুল কেলেঙ্কারি
ছবি সংগৃহীত

কুলতলি: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি সম্পত্তি চুরি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলায় জেলায় চলছে পুলিশের সাঁড়াশী অভিযান। বেআইনিভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিজেদের বাড়ি বা দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখার অভিযোগে ইতিমধ্যেই শাসকদলের একাধিক নেতা-নেত্রীকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ। এবার সেই একই মারাত্মক অভিযোগে নাম জড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির এক দাপুটে তৃণমূল নেতার। তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই থরে থরে সাজানো বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে শুধু সরকারি চাল-ত্রিপলই নয়, নেতার গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং খোদ পুলিশের জাল পোশাক! ধৃত এই নেতার নাম কার্তিক সর্দার। তিনি কুলতলির জলাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারি ও কোটি টাকার ত্রাণের হদিশ মিলতেই গোটা সুন্দরবন এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনের সাধারণ মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে হাহাকার করছিলেন, তখন তাঁদের জন্য পাঠানো সরকারি সাহায্য লুঠ করে নিজের আখের গুছিয়েছেন এই নেতা। গ্রামবাসীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই বড় বড় গাড়ি বোঝাই করে ত্রিপল, চাল এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী এলাকায় আসতে দেখতেন তাঁরা। কিন্তু সেই সমস্ত জিনিস সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই সোজা ঢুকে যেত কার্তিক সর্দারের বাড়িতে। যখনই কোনও অসহায় দুর্গত মানুষ নিজের হকের ত্রাণের জিনিস চাইতে যেতেন, তখনই ‘মাল শেষ হয়ে গেছে’ বা ‘ওপর থেকে জিনিস আসেনি’— এমন নানা অজুহাত দিয়ে তাঁদের গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হতো।


ত্রাণ লুঠের পাশাপাশি এই নেতার বিরুদ্ধে মারাত্মক স্বজনপোষণের অভিযোগও সামনে এসেছে। এলাকার মানুষের দাবি, ঝড়ে ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ এক টুকরো প্লাস্টিক পাননি। অথচ নেতার ঘনিষ্ঠ অনুগামী এবং তাঁর নিজের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে দুর্যোগের পরেই পৌঁছে দেওয়া হতো দামি ত্রিপল এবং প্রচুর ত্রাণসামগ্রী। সরকারি সম্পত্তিকে নিজের বাপের সম্পত্তি বানিয়ে নেওয়ার এই চরম অহংকার ভাঙতেই শেষমেশ এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। আর কার্তিক সর্দার গ্রেপ্তার হতেই এতদিন ভয়ে চুপ করে থাকা এলাকার শয়ে শয়ে মানুষ এখন তাঁর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।


কার্তিক সর্দারের এই গ্রেপ্তারির পর শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এলাকার দাপুটে বিজেপি নেত্রী মাধবী হালদার। তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করে জানান, ধৃত কার্তিক সর্দার আসলে কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সরদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সেই প্রভাব খাটিয়েই তিনি এতদিন এলাকায় সমান্তরাল সাম্রাজ্য চালাচ্ছিলেন। বিজেপি নেত্রীর দাবি, কার্তিকের বাড়ি থেকে শুধু সাধারণ ত্রাণ নয়, বিপুল পরিমাণ সরকারি প্রকল্পের ফর্ম এবং আবেদনপত্রও উদ্ধার হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি নেতার ঘর থেকে পুলিশের ভুয়ো পোশাক বা ইউনিফর্ম উদ্ধার হওয়ায় তীব্র রহস্য দানা বেঁধেছে। কেন একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে পুলিশের পোশাক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধৃতের কঠোরতম শাস্তির দাবি করেছেন বিজেপি নেত্রী। আপাতত ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই গোটা চক্রের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

বিষয় : BengalPolitics tmcleaderarrested reliefscam kultaliscam

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ত্রাণের আড়ালে অস্ত্র সাম্রাজ্য ও পুলিশের জাল পোশাক! কুলতলিতে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গোপন ডেরায় পুলিশের হানা, উদ্ধার বিপুল কেলেঙ্কারি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image
কুলতলি: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি সম্পত্তি চুরি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলায় জেলায় চলছে পুলিশের সাঁড়াশী অভিযান। বেআইনিভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিজেদের বাড়ি বা দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখার অভিযোগে ইতিমধ্যেই শাসকদলের একাধিক নেতা-নেত্রীকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ। এবার সেই একই মারাত্মক অভিযোগে নাম জড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির এক দাপুটে তৃণমূল নেতার। তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই থরে থরে সাজানো বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে শুধু সরকারি চাল-ত্রিপলই নয়, নেতার গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং খোদ পুলিশের জাল পোশাক! ধৃত এই নেতার নাম কার্তিক সর্দার। তিনি কুলতলির জলাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারি ও কোটি টাকার ত্রাণের হদিশ মিলতেই গোটা সুন্দরবন এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনের সাধারণ মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে হাহাকার করছিলেন, তখন তাঁদের জন্য পাঠানো সরকারি সাহায্য লুঠ করে নিজের আখের গুছিয়েছেন এই নেতা। গ্রামবাসীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই বড় বড় গাড়ি বোঝাই করে ত্রিপল, চাল এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী এলাকায় আসতে দেখতেন তাঁরা। কিন্তু সেই সমস্ত জিনিস সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই সোজা ঢুকে যেত কার্তিক সর্দারের বাড়িতে। যখনই কোনও অসহায় দুর্গত মানুষ নিজের হকের ত্রাণের জিনিস চাইতে যেতেন, তখনই ‘মাল শেষ হয়ে গেছে’ বা ‘ওপর থেকে জিনিস আসেনি’— এমন নানা অজুহাত দিয়ে তাঁদের গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হতো।ত্রাণ লুঠের পাশাপাশি এই নেতার বিরুদ্ধে মারাত্মক স্বজনপোষণের অভিযোগও সামনে এসেছে। এলাকার মানুষের দাবি, ঝড়ে ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ এক টুকরো প্লাস্টিক পাননি। অথচ নেতার ঘনিষ্ঠ অনুগামী এবং তাঁর নিজের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে দুর্যোগের পরেই পৌঁছে দেওয়া হতো দামি ত্রিপল এবং প্রচুর ত্রাণসামগ্রী। সরকারি সম্পত্তিকে নিজের বাপের সম্পত্তি বানিয়ে নেওয়ার এই চরম অহংকার ভাঙতেই শেষমেশ এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। আর কার্তিক সর্দার গ্রেপ্তার হতেই এতদিন ভয়ে চুপ করে থাকা এলাকার শয়ে শয়ে মানুষ এখন তাঁর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।কার্তিক সর্দারের এই গ্রেপ্তারির পর শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এলাকার দাপুটে বিজেপি নেত্রী মাধবী হালদার। তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করে জানান, ধৃত কার্তিক সর্দার আসলে কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সরদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সেই প্রভাব খাটিয়েই তিনি এতদিন এলাকায় সমান্তরাল সাম্রাজ্য চালাচ্ছিলেন। বিজেপি নেত্রীর দাবি, কার্তিকের বাড়ি থেকে শুধু সাধারণ ত্রাণ নয়, বিপুল পরিমাণ সরকারি প্রকল্পের ফর্ম এবং আবেদনপত্রও উদ্ধার হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি নেতার ঘর থেকে পুলিশের ভুয়ো পোশাক বা ইউনিফর্ম উদ্ধার হওয়ায় তীব্র রহস্য দানা বেঁধেছে। কেন একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে পুলিশের পোশাক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধৃতের কঠোরতম শাস্তির দাবি করেছেন বিজেপি নেত্রী। আপাতত ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই গোটা চক্রের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার