Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মমতার হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বিধায়কদের গণ-অনুপস্থিতি! ৮০ জনের মধ্যে এলেন মাত্র ২০, রাগে বৈঠকই বাতিল করলেন নেত্রী?

মমতার হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বিধায়কদের গণ-অনুপস্থিতি! ৮০ জনের মধ্যে এলেন মাত্র ২০, রাগে বৈঠকই বাতিল করলেন নেত্রী?
ফাইল চিত্র

কলকাতা: বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর এবার কি খোদ দলের ভেতরেই চরম কোন্দল আর ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ডাকা তৃণমূল পরিষদীয় দলের মেগা বৈঠককে ঘিরে যা ঘটে গেল, তা বোধহয় স্বয়ং দলীয় সুপ্রিমোও কল্পনা করতে পারেননি। ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে যোগ দিতে এলেন মাত্র ২০ জন! অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ বিধায়কই কার্যত দলীয় নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মমতার বৈঠক বয়কট করলেন। আর এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে কোরাম বা ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চরম অস্বস্তির মুখে পড়ে তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিল করে দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেত্রী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।




তৃণমূলের পরিষদীয় দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত দিন আগে থেকেই এই বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন পরিষদীয় দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নতুন জমানায় দলীয় বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এবং পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতেই স্বয়ং দলনেত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে এই হাইভোল্টেজ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেববাবু খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার দুপুর গড়াতেই নজিরবিহীন এক ফ্লপ শো-এর সাক্ষী থাকল কালীঘাট। একের পর এক চেয়ার ফাঁকাই পড়ে রইল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গুনে দেখা যায়, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে হাজির হয়েছেন মাত্র ২০ জন! বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, পলাশিপাড়ার রুকবানুর রহমান, বজবজের অশোক দেব, পাঁচলার গুলশন মল্লিক, মালতীপুরের আব্দুল রহিম বক্সী এবং কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন মণ্ডলের মতো হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কাউকেই দেখা যায়নি। ফলে চরম ক্ষোভ ও অপমানের আবহে বৈঠকটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে সমস্ত হেভিওয়েট বিধায়করা রবিবারের এই মেগা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই সুকৌশলে নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। উত্তর কলকাতার এন্টালি থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক সন্দীপন সাহা বৈঠকে তো আসেনইনি, উল্টে তাঁর ফোনটি সম্পূর্ণ সুইচড অফ রয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে কসবার দাপুটে বিধায়ক জাভেদ খানের ক্ষেত্রেও; তাঁকে ফোন করা হলে তিনি সরাসরি লাইন কেটে দেন। এমনকি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মেটিয়াবুরুজের অত্যন্ত প্রভাবশালী বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লাও বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। একের পর এক বিধায়কের এই রহস্যজনক অন্তর্ধানে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তবে কি রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন সপ্তাহের মধ্যেই দল ছাড়ার বা দলবদলের খেলা শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের অন্দরে?



এদিকে এই চরম কেলেঙ্কারি ঢাকতে এবং ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৈঠক বাতিল হওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে ঘুরিয়ে তিনি দাবি করেন, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যে ভয়াবহ হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে ও দলীয় কর্মীদের ওপর চলা অত্যাচার রুখতে বিধায়কেরা নিজেদের এলাকায় ব্যস্ত রয়েছেন। কুণাল বাবুর দাবি, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই নাকি বহু বিধায়ক ফোন করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বৈঠকের দিন বদল করার অনুরোধ করেছিলেন এবং সেই কারণেই নাকি বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূলের তরফে এমন সাফাই দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল প্রশ্ন তুলছে, যদি আগেই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকত, তবে মদন মিত্র বা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ ২০ জন বিধায়ক কেন তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে কালীঘাটে হাজির হলেন? স্পষ্টতই, কতজন বিধায়ক আসবেন তার কোনও সঠিক অনুমানই ছিল না শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে, আর হাজিরা খাতা ফাঁকা দেখেই মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিলের গল্প শোনানো হচ্ছে। আপাতত এই ভাঙনের আবহেই সোমবার অভিষেক ও কল্যাণের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্লকে ব্লকে মিছিলের নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল।

বিষয় : Mamata Banerjee POLITICAL CHAOS TrinamoolCongress kolkatapolitics kunalghosh madanmitra

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মমতার হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বিধায়কদের গণ-অনুপস্থিতি! ৮০ জনের মধ্যে এলেন মাত্র ২০, রাগে বৈঠকই বাতিল করলেন নেত্রী?

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর এবার কি খোদ দলের ভেতরেই চরম কোন্দল আর ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ডাকা তৃণমূল পরিষদীয় দলের মেগা বৈঠককে ঘিরে যা ঘটে গেল, তা বোধহয় স্বয়ং দলীয় সুপ্রিমোও কল্পনা করতে পারেননি। ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে যোগ দিতে এলেন মাত্র ২০ জন! অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ বিধায়কই কার্যত দলীয় নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মমতার বৈঠক বয়কট করলেন। আর এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে কোরাম বা ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চরম অস্বস্তির মুখে পড়ে তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিল করে দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেত্রী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।তৃণমূলের পরিষদীয় দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত দিন আগে থেকেই এই বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন পরিষদীয় দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নতুন জমানায় দলীয় বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এবং পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতেই স্বয়ং দলনেত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে এই হাইভোল্টেজ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেববাবু খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার দুপুর গড়াতেই নজিরবিহীন এক ফ্লপ শো-এর সাক্ষী থাকল কালীঘাট। একের পর এক চেয়ার ফাঁকাই পড়ে রইল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গুনে দেখা যায়, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে হাজির হয়েছেন মাত্র ২০ জন! বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, পলাশিপাড়ার রুকবানুর রহমান, বজবজের অশোক দেব, পাঁচলার গুলশন মল্লিক, মালতীপুরের আব্দুল রহিম বক্সী এবং কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন মণ্ডলের মতো হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কাউকেই দেখা যায়নি। ফলে চরম ক্ষোভ ও অপমানের আবহে বৈঠকটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে সমস্ত হেভিওয়েট বিধায়করা রবিবারের এই মেগা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই সুকৌশলে নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। উত্তর কলকাতার এন্টালি থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক সন্দীপন সাহা বৈঠকে তো আসেনইনি, উল্টে তাঁর ফোনটি সম্পূর্ণ সুইচড অফ রয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে কসবার দাপুটে বিধায়ক জাভেদ খানের ক্ষেত্রেও; তাঁকে ফোন করা হলে তিনি সরাসরি লাইন কেটে দেন। এমনকি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মেটিয়াবুরুজের অত্যন্ত প্রভাবশালী বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লাও বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। একের পর এক বিধায়কের এই রহস্যজনক অন্তর্ধানে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তবে কি রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন সপ্তাহের মধ্যেই দল ছাড়ার বা দলবদলের খেলা শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের অন্দরে?এদিকে এই চরম কেলেঙ্কারি ঢাকতে এবং ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৈঠক বাতিল হওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে ঘুরিয়ে তিনি দাবি করেন, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যে ভয়াবহ হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদে ও দলীয় কর্মীদের ওপর চলা অত্যাচার রুখতে বিধায়কেরা নিজেদের এলাকায় ব্যস্ত রয়েছেন। কুণাল বাবুর দাবি, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই নাকি বহু বিধায়ক ফোন করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বৈঠকের দিন বদল করার অনুরোধ করেছিলেন এবং সেই কারণেই নাকি বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূলের তরফে এমন সাফাই দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল প্রশ্ন তুলছে, যদি আগেই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকত, তবে মদন মিত্র বা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ ২০ জন বিধায়ক কেন তপ্ত রোদ মাথায় নিয়ে কালীঘাটে হাজির হলেন? স্পষ্টতই, কতজন বিধায়ক আসবেন তার কোনও সঠিক অনুমানই ছিল না শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে, আর হাজিরা খাতা ফাঁকা দেখেই মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিলের গল্প শোনানো হচ্ছে। আপাতত এই ভাঙনের আবহেই সোমবার অভিষেক ও কল্যাণের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্লকে ব্লকে মিছিলের নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার