Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

গভীর রাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ, ভোর ৪টে বাজতেই ‘পত্রবোমা’! চাকরি খোয়ালেন মেটার ৮,০০০ কর্মী

গভীর রাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ, ভোর ৪টে বাজতেই ‘পত্রবোমা’! চাকরি খোয়ালেন মেটার ৮,০০০ কর্মী
AI GENERATED PICTURE

নয়াদিল্লি: প্রথমে বলা হয় অফিস আসার দরকার নেই, নিশ্চিন্তে বাড়ি থেকে কাজ করুন। তার ঠিক পরপরই, সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, সেই ভোর ৪টের সময়েই এল সেই ছাঁটাইয়ের মেল! এক ঝটকায় চাকরি চলে গেল ফেসবুকের পেরেন্ট কোম্পানি ‘মেটা’র প্রায় ৮,০০০ কর্মীর। মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থার এই আকস্মিক ‘ডিজিট্যাল স্ট্রাইক’ ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।


ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার সিঙ্গাপুর অফিসের কর্মীরা স্থানীয় সময় ভোর ৪টেয় (ভারতীয় সময় রাত দেড়টায়) প্রথম এই ছাঁটাইয়ের মেল পান। এরপর বিভিন্ন দেশের ‘টাইম জোন’ অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাকি কর্মীদের কাছেও মেল পৌঁছয়। মেটা কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির পিছনে বিপুল খরচের ধাক্কা সামলাতে তারা মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করবে। ২০ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হল।


নতুন করে এই ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের আগে মেটায় প্রায় ৭৮,০০০ কর্মী কর্মরত ছিলেন। শুধু কর্মী ছাঁটাই-ই নয়, সংস্থায় যে ৬,০০০ শূন্য পদে নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল, তাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে, এরই মাঝে কিছু কর্মীকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেটার ‘চিফ পিপল অফিসার’ জ্যানেল গেল জানিয়েছেন, প্রায় ৭,০০০ কর্মীকে নতুন এআই-ভিত্তিক (AI-based) দলে স্থানান্তরিত করা হবে। সংস্থার এই পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে আছি, যেখানে অনেক সংস্থাই ছোট-ছোট দলের সমন্বয়ে একটি সরল কাঠামোয় আরও দ্রুত কাজ করতে পারে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রোডাক্ট টিমগুলি। এমনকী, বছরের শেষের দিকে আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


মেটার এই আকস্মিক পদক্ষেপে কর্মীদের মনোবল ভেঙে চুরমার। তবে সূত্রের খবর, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই অনেকে বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন তাঁরা। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিস থেকে বিনামূল্যে খাবার এবং অতিরিক্ত ল্যাপটপ চার্জার সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলেন। কর্মীদের একাংশের মতে, তাঁদের ‘বাড়ি থেকে কাজ’ (Work From Home) করার নির্দেশ দেওয়াটাই ছিল একটি চাল, যাতে অফিসে কোনও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত নীরবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।


কর্মী ছাঁটাইয়ের এই অন্ধকার অধ্যায় শুধু মেটাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গোটা প্রযুক্তি ক্ষেত্রজুড়েই চলছে হাহাকার। যেমন - 


ওরাকল: গত এপ্রিলে প্রায় ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে।


সিসকো সিস্টেমস: গত সপ্তাহে ছাঁটাই করেছে ৪,০০০ কর্মী।


অন্যান্য: মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ডিজনি এবং এএসএমএল-এর মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলিও কর্মী ছাঁটাই অথবা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।


আপাতত জুকেরবার্গের প্রধান লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। চলতি বছরে মেটা শুধু এআই খাতেই ১২ থেকে ১৪ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। আর, সেই এআই-এর আগ্রাসনেই আপাতত রুজি-রুটি হারাতে হল হাজার হাজার রক্তমাংসের মানুষকে।

বিষয় : ArtificialIntelligence workfromhome metaanalysis techlayoffs2026

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


গভীর রাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ, ভোর ৪টে বাজতেই ‘পত্রবোমা’! চাকরি খোয়ালেন মেটার ৮,০০০ কর্মী

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: প্রথমে বলা হয় অফিস আসার দরকার নেই, নিশ্চিন্তে বাড়ি থেকে কাজ করুন। তার ঠিক পরপরই, সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, সেই ভোর ৪টের সময়েই এল সেই ছাঁটাইয়ের মেল! এক ঝটকায় চাকরি চলে গেল ফেসবুকের পেরেন্ট কোম্পানি ‘মেটা’র প্রায় ৮,০০০ কর্মীর। মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থার এই আকস্মিক ‘ডিজিট্যাল স্ট্রাইক’ ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার সিঙ্গাপুর অফিসের কর্মীরা স্থানীয় সময় ভোর ৪টেয় (ভারতীয় সময় রাত দেড়টায়) প্রথম এই ছাঁটাইয়ের মেল পান। এরপর বিভিন্ন দেশের ‘টাইম জোন’ অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাকি কর্মীদের কাছেও মেল পৌঁছয়। মেটা কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির পিছনে বিপুল খরচের ধাক্কা সামলাতে তারা মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করবে। ২০ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হল।নতুন করে এই ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের আগে মেটায় প্রায় ৭৮,০০০ কর্মী কর্মরত ছিলেন। শুধু কর্মী ছাঁটাই-ই নয়, সংস্থায় যে ৬,০০০ শূন্য পদে নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল, তাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে, এরই মাঝে কিছু কর্মীকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেটার ‘চিফ পিপল অফিসার’ জ্যানেল গেল জানিয়েছেন, প্রায় ৭,০০০ কর্মীকে নতুন এআই-ভিত্তিক (AI-based) দলে স্থানান্তরিত করা হবে। সংস্থার এই পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে আছি, যেখানে অনেক সংস্থাই ছোট-ছোট দলের সমন্বয়ে একটি সরল কাঠামোয় আরও দ্রুত কাজ করতে পারে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রোডাক্ট টিমগুলি। এমনকী, বছরের শেষের দিকে আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।মেটার এই আকস্মিক পদক্ষেপে কর্মীদের মনোবল ভেঙে চুরমার। তবে সূত্রের খবর, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই অনেকে বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন তাঁরা। কিছু কর্মী আগেভাগেই অফিস থেকে বিনামূল্যে খাবার এবং অতিরিক্ত ল্যাপটপ চার্জার সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলেন। কর্মীদের একাংশের মতে, তাঁদের ‘বাড়ি থেকে কাজ’ (Work From Home) করার নির্দেশ দেওয়াটাই ছিল একটি চাল, যাতে অফিসে কোনও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত নীরবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।কর্মী ছাঁটাইয়ের এই অন্ধকার অধ্যায় শুধু মেটাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গোটা প্রযুক্তি ক্ষেত্রজুড়েই চলছে হাহাকার। যেমন - ওরাকল: গত এপ্রিলে প্রায় ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে।সিসকো সিস্টেমস: গত সপ্তাহে ছাঁটাই করেছে ৪,০০০ কর্মী।অন্যান্য: মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ডিজনি এবং এএসএমএল-এর মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলিও কর্মী ছাঁটাই অথবা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।আপাতত জুকেরবার্গের প্রধান লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। চলতি বছরে মেটা শুধু এআই খাতেই ১২ থেকে ১৪ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। আর, সেই এআই-এর আগ্রাসনেই আপাতত রুজি-রুটি হারাতে হল হাজার হাজার রক্তমাংসের মানুষকে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার