কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে কি এবার তবে মহাভারতের পুনরাবৃত্তি? একদিকে যখন পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে ঘর সামলাতে ব্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেস, ঠিক তখনই আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে ‘ধৃতরাষ্ট্র’, ‘দুর্যোধন’ এবং ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে যে কড়া আক্রমণ তিনি শানিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা — তাঁর নিশানায় আর কেউ নন, রয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!
২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে অভিষেককেন্দ্রিক ‘কর্পোরেট রাজনীতি’ নিয়ে ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল। কিন্তু, এবার সেই বিদ্রোহের আগুন স্পর্শ করল কালীঘাটের অন্দরমহলকেও। প্রিয়দর্শিনী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ‘ধৃতরাষ্ট্র’ রূপকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এবং ‘দুর্যোধন’ রূপকটি অভিষেকের প্রতি অন্ধ মোহের ইঙ্গিত। ক্ষমতার কেন্দ্রিকতা আর পরিবারের প্রতি দুর্বলতা কীভাবে বড় সাম্রাজ্যের পতন ঘটায়, প্রিয়দর্শিনী তা রামায়ণ ও মহাভারতের উদাহরণ টেনে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন!
তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রিয়দর্শিনী বিদায়ী মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য ফিরহাদ হাকিমের কন্যা। একদিকে যখন ডেরেক ও’ব্রায়েন পাঁচ বিদ্রোহী মুখপাত্রকে শো-কজ করেছেন, ঠিক সেই সময়েই এমন একটি পোস্ট প্রবীণ নেতাদের একাংশের চাপা ক্ষোভই প্রকাশ্যে নিয়ে এল বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্রোহীরা দাবি করেছিলেন, বিদায়ী মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের সমর্থন তাঁদের দিকে রয়েছে — প্রিয়দর্শিনীর এই ‘বিদ্রোহী’ বার্তা সেই দাবিকেই যেন সিলমোহর দিল!
শনিবার যখন ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন তৃণমূলের অন্দরে এই ‘মহাভারত’ আখ্যান যে নতুন কম্পন সৃষ্টি করেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। প্রিয়দর্শিনীর এই দুঃসাহসী বার্তার পর কালীঘাট কি এবার তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে? নাকি এই ফাটল দলের পতনকে আরও ত্বরান্বিত করবে? উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষায়।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন