Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

শুভেন্দুর শপথ নিতেই কি রণে ভঙ্গ? অবশেষে সোশাল মিডিয়ায় বায়ো বদলালেন মমতা, তবে ‘প্রাক্তন’ হলেন না!

শুভেন্দুর শপথ নিতেই কি রণে ভঙ্গ? অবশেষে সোশাল মিডিয়ায় বায়ো বদলালেন মমতা, তবে ‘প্রাক্তন’ হলেন না!
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে কি তবে একটি অধ্যায়ের স্থায়ী অবসান ঘটল? শনিবার ব্রিগেডে যখন রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই এক নিঃশব্দ বদল ঘটে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজিটাল প্রোফাইলে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে যে জেদ আর লড়াইয়ের মেজাজ তিনি বজায় রেখেছিলেন, আজ তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের একটি ‘আপডেট’ কি সেই লড়াইয়ে ইতি টানার ইঙ্গিত? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।


শনিবার দুপুর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের বায়োতে লেখা ছিল তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মিটতেই সেই পরিচয় কিছুটা বদলে গেল। নতুন বায়োতে মমতা লিখেছেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ১৫তম, ১৬তম এবং ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজের দাবি আর রাখলেন না তিনি। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, সচরাচর পরাজিত মুখ্যমন্ত্রীরা যেমন ‘প্রাক্তন’ বা ‘Former’ শব্দটি ব্যবহার করেন, মমতা কিন্তু তা সচেতনভাবেই এড়িয়ে গিয়েছেন! যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। 


২০২৬-এর এই পটবদল ২০১১-র বহু স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে। সেবার বাম শাসনের পতনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার দিন বিকেলেই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু, এবারের ছবিটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। পরাজয়ের দায় স্বীকার না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল শিবির দাবি করেছিল, "তারা হারেনি, তাদের হারানো হয়েছে!" কালীঘাটের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, চক্রান্তের শিকার হয়েছেন তিনি, তাই ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এমনকী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পরও তিনি নিজের ডিজিটাল পরিচয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদটি আঁকড়ে ছিলেন।


অবশেষে শনিবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অনড় অবস্থানে কিছুটা হলেও বদল আনল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রাক্তন’ শব্দটি ব্যবহার না করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তিনি নিজেকে কেবল তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ রেখে একপ্রকার নৈতিক জয় বা আভিজাত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।


বায়ো বদলালেও তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রোফাইলে এখনও জ্বলজ্বল করছে ‘তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন’ পরিচয়টি। এখন দেখার, ডিজিটাল জগতের এই বদল আগামী দিনে বাংলার রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের রূপরেখা কীভাবে নির্ধারণ করে।

বিষয় : Mamata Banerjee BengalPolitics TMCVSBJP SuvenduAdhikari politiclashift

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


শুভেন্দুর শপথ নিতেই কি রণে ভঙ্গ? অবশেষে সোশাল মিডিয়ায় বায়ো বদলালেন মমতা, তবে ‘প্রাক্তন’ হলেন না!

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে কি তবে একটি অধ্যায়ের স্থায়ী অবসান ঘটল? শনিবার ব্রিগেডে যখন রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই এক নিঃশব্দ বদল ঘটে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজিটাল প্রোফাইলে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে যে জেদ আর লড়াইয়ের মেজাজ তিনি বজায় রেখেছিলেন, আজ তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের একটি ‘আপডেট’ কি সেই লড়াইয়ে ইতি টানার ইঙ্গিত? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।শনিবার দুপুর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের বায়োতে লেখা ছিল তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মিটতেই সেই পরিচয় কিছুটা বদলে গেল। নতুন বায়োতে মমতা লিখেছেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ১৫তম, ১৬তম এবং ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজের দাবি আর রাখলেন না তিনি। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, সচরাচর পরাজিত মুখ্যমন্ত্রীরা যেমন ‘প্রাক্তন’ বা ‘Former’ শব্দটি ব্যবহার করেন, মমতা কিন্তু তা সচেতনভাবেই এড়িয়ে গিয়েছেন! যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০২৬-এর এই পটবদল ২০১১-র বহু স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে। সেবার বাম শাসনের পতনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার দিন বিকেলেই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু, এবারের ছবিটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। পরাজয়ের দায় স্বীকার না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল শিবির দাবি করেছিল, "তারা হারেনি, তাদের হারানো হয়েছে!" কালীঘাটের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, চক্রান্তের শিকার হয়েছেন তিনি, তাই ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এমনকী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পরও তিনি নিজের ডিজিটাল পরিচয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদটি আঁকড়ে ছিলেন।অবশেষে শনিবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অনড় অবস্থানে কিছুটা হলেও বদল আনল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রাক্তন’ শব্দটি ব্যবহার না করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তিনি নিজেকে কেবল তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ রেখে একপ্রকার নৈতিক জয় বা আভিজাত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।বায়ো বদলালেও তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রোফাইলে এখনও জ্বলজ্বল করছে ‘তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন’ পরিচয়টি। এখন দেখার, ডিজিটাল জগতের এই বদল আগামী দিনে বাংলার রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের রূপরেখা কীভাবে নির্ধারণ করে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার