Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

৫০ ডিগ্রির ভারতের চেয়েও কেন ‘গ্যাস চেম্বার’ ইউরোপ? ৪০-এর কামড়েই সাহেবদের ঘরে ঘরে ত্রাহি ত্রাহি রব!

৫০ ডিগ্রির ভারতের চেয়েও কেন ‘গ্যাস চেম্বার’ ইউরোপ? ৪০-এর কামড়েই সাহেবদের ঘরে ঘরে ত্রাহি ত্রাহি রব!
ছবি--প্রতীকী

লন্ডন: থার্মোমিটারে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছোঁয়ার আগেই গরমে কার্যত ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে গোটা ইউরোপজুড়ে। ফ্রান্স থেকে স্পেন—জনজীবন স্তব্ধ, খাওয়া-ঘুমানো তো দূর, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে। এই খবরের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশ বেশ মজা নিতে শুরু করেছেন। 


কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, ভারতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছুঁলেও এদেশের মানুষ চনমনে রোদে দাঁড়িয়ে ফুটন্ত চা খেতে পারেন, সেখানে ৪০ ডিগ্রিতেই সাহেবদের এই হাল! তবে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে ইউরোপের এই ভোগান্তি দেখে ট্রোল বা বিদ্রূপাত্মক হাসি-ঠাট্টা চললেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আবহাওয়াবিদরা কিন্তু বলছেন আসল সত্যিটা সম্পূর্ণ আলাদা। থার্মোমিটারের সংখ্যা এক হলেও ভারতের ৪৩ ডিগ্রি আর ইউরোপের ৪০ ডিগ্রির কামড় কেন আকাশ-পাতাল তফাত, তার পেছনে রয়েছে মারাত্মক কিছু ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত কারণ।


নক-আউট ম্যাডনেস!আজ বিদায় নেবে কোন কোন দল?


জলবায়ু গবেষকদের মতে, ভারতের তুলনায় অনেক বেশি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় ইউরোপে গ্রীষ্মকালে দিনের দৈর্ঘ্য ভারতের চেয়ে অনেক বেশি হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্য মামা সেখানে আগুন ঝরায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাতাসের গুণগত মান। ভারতে বাতাসে ধুলো ও দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা সূর্যের আলোকে কিছুটা হলেও শুষে বা ছড়িয়ে দেয়, যা একধরণের প্রাকৃতিক ছাতার কাজ করে। কিন্তু ইউরোপের আকাশ থাকে একদম কাঁচের মতো পরিষ্কার, যার ফলে সূর্যের অতিবেগুনি ও ক্ষতিকর রশ্মি কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি মাটিতে এসে পড়ে এবং গরমের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ওপর সাম্প্রতিক হিটওয়েভের সময় ইউরোপের বহু দেশে বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রায় শূন্য। হাওয়া না থাকায় মানুষের শরীর থেকে ঘাম শুকোতে পারছে না, ফলে তৈরি হচ্ছে দমবন্ধ করা এক পরিস্থিতি।

৯৬ মিনিটের রূপকথা!নেইমার ছাড়াই ' রাউন্ড অফ ১৬'-ব্রাজিল!


ইউরোপের বাসিন্দাদের এই চরম বিপদের পেছনে সবচেয়ে বড় খলনায়ক হলো সেখানকার বাড়িঘরের নকশা। বছরের পর বছর ধরে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী শীতের হাত থেকে বাঁচতে ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়ি এমনভাবে তৈরি, যাতে ভেতরের গরম হাওয়া কোনোভাবেই বাইরে বেরোতে না পারে। 


তীব্র গরমে এই দুর্দান্ত ইনসুলেশন ব্যবস্থাই এখন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের তাপ ঘরে ঢুকে আটকে যাচ্ছে, ফলে ঘরগুলি এক একটি জ্বলন্ত ‘তন্দুর’ বা চুল্লিতে পরিণত হচ্ছে। ভারতের মতো সেখানে হাওয়া চলাচলের জন্য বড় বড় খোলা জানলা বা বারান্দা থাকে না। তার ওপর শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় অধিকাংশ সাধারণ মধ্যবিত্তের বাড়িতে এসি বা সিলিং ফ্যানের মতো ন্যূনতম বালাইও নেই। তাই শুধু থার্মোমিটারের রিডিং দেখে ইউরোপের মানুষদের সহ্যক্ষমতা কম বলে দাগিয়ে দেওয়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিষয় : ClimateChange globalwarming europeheatwave sciencefacts indiavseurope

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


৫০ ডিগ্রির ভারতের চেয়েও কেন ‘গ্যাস চেম্বার’ ইউরোপ? ৪০-এর কামড়েই সাহেবদের ঘরে ঘরে ত্রাহি ত্রাহি রব!

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image
লন্ডন: থার্মোমিটারে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছোঁয়ার আগেই গরমে কার্যত ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে গোটা ইউরোপজুড়ে। ফ্রান্স থেকে স্পেন—জনজীবন স্তব্ধ, খাওয়া-ঘুমানো তো দূর, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে। এই খবরের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশ বেশ মজা নিতে শুরু করেছেন। কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, ভারতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছুঁলেও এদেশের মানুষ চনমনে রোদে দাঁড়িয়ে ফুটন্ত চা খেতে পারেন, সেখানে ৪০ ডিগ্রিতেই সাহেবদের এই হাল! তবে ভারতীয় প্রেক্ষাপটে ইউরোপের এই ভোগান্তি দেখে ট্রোল বা বিদ্রূপাত্মক হাসি-ঠাট্টা চললেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আবহাওয়াবিদরা কিন্তু বলছেন আসল সত্যিটা সম্পূর্ণ আলাদা। থার্মোমিটারের সংখ্যা এক হলেও ভারতের ৪৩ ডিগ্রি আর ইউরোপের ৪০ ডিগ্রির কামড় কেন আকাশ-পাতাল তফাত, তার পেছনে রয়েছে মারাত্মক কিছু ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত কারণ।নক-আউট ম্যাডনেস!আজ বিদায় নেবে কোন কোন দল?জলবায়ু গবেষকদের মতে, ভারতের তুলনায় অনেক বেশি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় ইউরোপে গ্রীষ্মকালে দিনের দৈর্ঘ্য ভারতের চেয়ে অনেক বেশি হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্য মামা সেখানে আগুন ঝরায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাতাসের গুণগত মান। ভারতে বাতাসে ধুলো ও দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা সূর্যের আলোকে কিছুটা হলেও শুষে বা ছড়িয়ে দেয়, যা একধরণের প্রাকৃতিক ছাতার কাজ করে। কিন্তু ইউরোপের আকাশ থাকে একদম কাঁচের মতো পরিষ্কার, যার ফলে সূর্যের অতিবেগুনি ও ক্ষতিকর রশ্মি কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি মাটিতে এসে পড়ে এবং গরমের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ওপর সাম্প্রতিক হিটওয়েভের সময় ইউরোপের বহু দেশে বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রায় শূন্য। হাওয়া না থাকায় মানুষের শরীর থেকে ঘাম শুকোতে পারছে না, ফলে তৈরি হচ্ছে দমবন্ধ করা এক পরিস্থিতি।৯৬ মিনিটের রূপকথা!নেইমার ছাড়াই ' রাউন্ড অফ ১৬'-ব্রাজিল! ইউরোপের বাসিন্দাদের এই চরম বিপদের পেছনে সবচেয়ে বড় খলনায়ক হলো সেখানকার বাড়িঘরের নকশা। বছরের পর বছর ধরে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী শীতের হাত থেকে বাঁচতে ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়ি এমনভাবে তৈরি, যাতে ভেতরের গরম হাওয়া কোনোভাবেই বাইরে বেরোতে না পারে। তীব্র গরমে এই দুর্দান্ত ইনসুলেশন ব্যবস্থাই এখন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের তাপ ঘরে ঢুকে আটকে যাচ্ছে, ফলে ঘরগুলি এক একটি জ্বলন্ত ‘তন্দুর’ বা চুল্লিতে পরিণত হচ্ছে। ভারতের মতো সেখানে হাওয়া চলাচলের জন্য বড় বড় খোলা জানলা বা বারান্দা থাকে না। তার ওপর শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় অধিকাংশ সাধারণ মধ্যবিত্তের বাড়িতে এসি বা সিলিং ফ্যানের মতো ন্যূনতম বালাইও নেই। তাই শুধু থার্মোমিটারের রিডিং দেখে ইউরোপের মানুষদের সহ্যক্ষমতা কম বলে দাগিয়ে দেওয়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার