Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পাথরচুরির ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সরাসরি দুবাইয়ে! বিধানসভায় তৃণমূলের ‘যুবরাজ’কে নিয়ে শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় বোমা

পাথরচুরির ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সরাসরি দুবাইয়ে! বিধানসভায় তৃণমূলের ‘যুবরাজ’কে নিয়ে শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় বোমা
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: পূর্বাভাস মিলিয়েই মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কফিন খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একের পর এক চাঞ্চল্যকর পর্দা ফাঁস করে তিনি বিধানসভার অন্দরেই সবচেয়ে বড় ‘বোমা’টি ফাটালেন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ এবং বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি নিয়ে।


 মুখ্যমন্ত্রী তথ্যপ্রমাণ সহ দাবি করেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে প্রতি বছর প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা লুঠ করা হতো এবং সেই কালো টাকা কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সরাসরি দুবাইয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যেত। শুভেন্দু অধিকারী যখন খতিয়ান দিয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করছেন, তখন বিরোধী বেঞ্চে বসা কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমদের গালে হাত দিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।


নিজের দাবির সপক্ষে আগের সরকারের নথির তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগের জমানায় যেখানে বছরে মাত্র ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা খুব দ্রুত ১০০ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে। এই হিসাব তুলে ধরেই তিনি প্রমাণ করেন যে, বাকি ১১০০ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তা ‘যুবরাজে’র ডেরায় পাঠানো হতো। শুধু পাথর কেলেঙ্কারিই নয়, ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অ্যাকাউন্টে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে সরাসরি ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন। এছাড়া পূর্বতন সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এও বড়সড় থাবা বসানো হয়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা তৈরি করে বছরে করদাতাদের ৫৪০০ কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে এবং নবান্নের চোদ্দ তলা সব জেনেবুঝেই এই বিপুল পরিমাণ গরিবের টাকা চুরি হতে দিয়েছে।


এই প্রাতিষ্ঠানিক চুরির বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা গরিব মানুষের টাকা লুঠ করেছে, তাদের একজনকেও পার পাইয়ে দেওয়া হবে না। সরকার খুব শীঘ্রই অত্যন্ত কঠোর বিল আনছে, যার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্তদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে চুরির টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় করা হবে। তবে মঙ্গলবারের অধিবেশনে সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে যখন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তৃতার মধ্যেই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ খোদ শুভেন্দুর সুরেই সুর মেলান। কুণাল ঘোষ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে বলেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব যাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিন। আর যারা এখন নিজেদের সেই চুরি থেকে বাঁচাতে বিদ্রোহী (ঋতব্রত শিবির) সেজে নাটক করছে, তাদের কাউকেও বাঁচতে দেবেন না।" কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য নোভোটেল শিবিরে বসা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যেই ছাব্বিশের বিধানসভায় এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিষয় : ABHISEKH BANERJEE suvendu adhikari kunalghosh lakshmirbhandarscam westbengalassembly ipacinvestigation

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


পাথরচুরির ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সরাসরি দুবাইয়ে! বিধানসভায় তৃণমূলের ‘যুবরাজ’কে নিয়ে শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় বোমা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: পূর্বাভাস মিলিয়েই মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কফিন খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একের পর এক চাঞ্চল্যকর পর্দা ফাঁস করে তিনি বিধানসভার অন্দরেই সবচেয়ে বড় ‘বোমা’টি ফাটালেন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ এবং বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী তথ্যপ্রমাণ সহ দাবি করেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে প্রতি বছর প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা লুঠ করা হতো এবং সেই কালো টাকা কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সরাসরি দুবাইয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যেত। শুভেন্দু অধিকারী যখন খতিয়ান দিয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করছেন, তখন বিরোধী বেঞ্চে বসা কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমদের গালে হাত দিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।নিজের দাবির সপক্ষে আগের সরকারের নথির তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগের জমানায় যেখানে বছরে মাত্র ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা খুব দ্রুত ১০০ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে। এই হিসাব তুলে ধরেই তিনি প্রমাণ করেন যে, বাকি ১১০০ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তা ‘যুবরাজে’র ডেরায় পাঠানো হতো। শুধু পাথর কেলেঙ্কারিই নয়, ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অ্যাকাউন্টে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে সরাসরি ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন। এছাড়া পূর্বতন সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এও বড়সড় থাবা বসানো হয়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা তৈরি করে বছরে করদাতাদের ৫৪০০ কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে এবং নবান্নের চোদ্দ তলা সব জেনেবুঝেই এই বিপুল পরিমাণ গরিবের টাকা চুরি হতে দিয়েছে।এই প্রাতিষ্ঠানিক চুরির বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা গরিব মানুষের টাকা লুঠ করেছে, তাদের একজনকেও পার পাইয়ে দেওয়া হবে না। সরকার খুব শীঘ্রই অত্যন্ত কঠোর বিল আনছে, যার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্তদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে চুরির টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় করা হবে। তবে মঙ্গলবারের অধিবেশনে সবচেয়ে নাটকীয় মোড় আসে যখন মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তৃতার মধ্যেই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ খোদ শুভেন্দুর সুরেই সুর মেলান। কুণাল ঘোষ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে বলেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব যাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিন। আর যারা এখন নিজেদের সেই চুরি থেকে বাঁচাতে বিদ্রোহী (ঋতব্রত শিবির) সেজে নাটক করছে, তাদের কাউকেও বাঁচতে দেবেন না।" কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য নোভোটেল শিবিরে বসা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যেই ছাব্বিশের বিধানসভায় এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার