Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘যাঁরা পালাতে চান, পালিয়ে যান!’ ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ওপারে খেদিয়ে বিধানসভায় কাঁপানো হুঙ্কার শুভেন্দুর

‘যাঁরা পালাতে চান, পালিয়ে যান!’ ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ওপারে খেদিয়ে বিধানসভায় কাঁপানো হুঙ্কার শুভেন্দুর
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’— অর্থাৎ চিহ্নিত করো, বাদ দাও এবং দেশছাড়া করো। ভারত সরকারের এই চরম নীতি মেনেই এ বার বাংলা থেকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীকে তাড়াতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করে একবারে রণংদেহি মেজাজে হুঙ্কার ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 


অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি সাফ বলেন, "যাঁরা পালাতে চান, তাড়াতাড়ি পালিয়ে যান। আমার কথা শোনার পর ইতিমধ্যেই হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অনেকেই পালিয়েছে। বাকি যারা আছে, তারাও কেটে পড়ুন।" মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কোনো জেল বা সাজার জায়গা হবে না, তাদের সোজা সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে বাংলার সমস্ত বৈধ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, যাঁরা প্রকৃত ভারতবাসী ও খাঁটি দেশভক্ত, তাঁরা যে কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়েরই হোন না কেন, তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।


মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি বক্তব্য রাখার সময় এ যাবৎ নেওয়া রাজ্য সরকারের বুলেট গতির পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সীমান্তের ওপারে পুশব্যাক করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে, যাদের খুব দ্রুত ডিপোর্ট করা হবে। শুভেন্দুর স্পষ্ট ঘোষণা, যাঁদের নাম সিএএ (CAA)-এর অধীনে নথিভুক্ত থাকবে না, তাঁদের প্রত্যেককে এ দেশ থেকে তাড়ানো হবে। তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, "বাংলার টাকায়, ভারতীয়দের টাকায় শুধু প্রকৃত ভারতীয়রাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা বা বেকার ভাতা পাবেন। ভারতীয় ছেলেমেয়েদেরই শুধু চাকরি হবে, সরকারি স্কুলের সংস্কার হবে। কোনো বহিরাগত বা অনুপ্রবেশকারীকে ভারতীয়দের হকের টাকা লুঠ করতে দেব না।"


অনুপ্রবেশের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করতে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সীমান্ত নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, এতদিন ধরে কেন সীমান্তে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হয়নি? বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রীর বিএসএফ-কে গালিগালাজ করার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, এবার আর সেই ঢিলেঢালা নীতি চলবে না। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই বিএসএফ-এর হাতে ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত সমস্ত ফাঁকা সীমান্তে নিশ্ছিদ্র বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং বাংলাকে সুরক্ষিত করতে নতুন সরকার যে সম্পূর্ণ ‘আয়রন হ্যান্ড’ বা লৌহকঠিন নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, মঙ্গলবারের বিধানসভা অধিবেশনে শুভেন্দুর এই চাঁছাছোলা বক্তব্যেই তা একপ্রকার পরিষ্কার হয়ে গেল।

বিষয় : WestBengalPolitics WESTBENGALBJP Suvendu Adhikary BorderSecurity BSFINDIA caaindia

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


‘যাঁরা পালাতে চান, পালিয়ে যান!’ ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ওপারে খেদিয়ে বিধানসভায় কাঁপানো হুঙ্কার শুভেন্দুর

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’— অর্থাৎ চিহ্নিত করো, বাদ দাও এবং দেশছাড়া করো। ভারত সরকারের এই চরম নীতি মেনেই এ বার বাংলা থেকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীকে তাড়াতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করে একবারে রণংদেহি মেজাজে হুঙ্কার ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি সাফ বলেন, "যাঁরা পালাতে চান, তাড়াতাড়ি পালিয়ে যান। আমার কথা শোনার পর ইতিমধ্যেই হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অনেকেই পালিয়েছে। বাকি যারা আছে, তারাও কেটে পড়ুন।" মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কোনো জেল বা সাজার জায়গা হবে না, তাদের সোজা সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে বাংলার সমস্ত বৈধ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, যাঁরা প্রকৃত ভারতবাসী ও খাঁটি দেশভক্ত, তাঁরা যে কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়েরই হোন না কেন, তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের জবাবি বক্তব্য রাখার সময় এ যাবৎ নেওয়া রাজ্য সরকারের বুলেট গতির পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সীমান্তের ওপারে পুশব্যাক করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে, যাদের খুব দ্রুত ডিপোর্ট করা হবে। শুভেন্দুর স্পষ্ট ঘোষণা, যাঁদের নাম সিএএ (CAA)-এর অধীনে নথিভুক্ত থাকবে না, তাঁদের প্রত্যেককে এ দেশ থেকে তাড়ানো হবে। তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, "বাংলার টাকায়, ভারতীয়দের টাকায় শুধু প্রকৃত ভারতীয়রাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা বা বেকার ভাতা পাবেন। ভারতীয় ছেলেমেয়েদেরই শুধু চাকরি হবে, সরকারি স্কুলের সংস্কার হবে। কোনো বহিরাগত বা অনুপ্রবেশকারীকে ভারতীয়দের হকের টাকা লুঠ করতে দেব না।"অনুপ্রবেশের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করতে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সীমান্ত নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, এতদিন ধরে কেন সীমান্তে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হয়নি? বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রীর বিএসএফ-কে গালিগালাজ করার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, এবার আর সেই ঢিলেঢালা নীতি চলবে না। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই বিএসএফ-এর হাতে ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত সমস্ত ফাঁকা সীমান্তে নিশ্ছিদ্র বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং বাংলাকে সুরক্ষিত করতে নতুন সরকার যে সম্পূর্ণ ‘আয়রন হ্যান্ড’ বা লৌহকঠিন নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, মঙ্গলবারের বিধানসভা অধিবেশনে শুভেন্দুর এই চাঁছাছোলা বক্তব্যেই তা একপ্রকার পরিষ্কার হয়ে গেল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার