Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ইতিহাসে এই প্রথম! ‘আসল’ তৃণমূল কে বোঝাতে বিধানসভায় বেনজির ভোটাভুটি, কার দখলে যাবে পিএসি চেয়ারম্যানের কুর্সি?

ইতিহাসে এই প্রথম! ‘আসল’ তৃণমূল কে বোঝাতে বিধানসভায় বেনজির ভোটাভুটি, কার দখলে যাবে পিএসি চেয়ারম্যানের কুর্সি?
এ আই নির্মিত ছবি

কলকাতা: এক চরম নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। দলের প্রতীক, তহবিল এবং রাশ কার হাতে থাকবে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি 'বিদ্রোহী' নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সেই ধন্দ কাটাতে এবার সোজা ভোটাভুটির পথেই হাঁটতে হচ্ছে বিধানসভাকে। রাজ্য রাজনীতির এই টালমাটাল আবহে এবার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি (PAC) চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে আগামী ৫ জুলাই এক মেগা ভোটযুদ্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভার তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ভোট প্রক্রিয়ার বিস্তারিত সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যেই পারদ চড়তে শুরু করেছে।


সাধারণত সংসদীয় রাজনীতি বা বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, পিএসি বা পাবলিক আন্ডারটেকিং কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নজরদারি কমিটিগুলোর রাশ থাকে প্রধান বিরোধী দলের হাতে। বিরোধী দলনেতা যাঁর নাম মনোনয়ন করেন, তিনিই সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান হন। 



কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল বিরোধী আসনে বসার পরই দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন সব হিসেব উল্টে দেয়। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে নস্যাৎ করে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেন। সংখ্যাধিক্যের জোরে ঋতব্রত বিরোধী দলনেতার তকমা ছিনিয়ে নিলেও মমতা শিবির তাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ফলে আইনি জটে আটকে রয়েছে বিরোধী দলনেতার ভাগ্য। এই চরম ধাঁধা ও জটিলতা কাটাতেই এবার কোনো মনোনয়ন নয়, বরং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে চার চারটি কমিটির চেয়ারম্যান বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


মুহুর্মুহু বজ্রপাতে কাঁপল কলকাতা, উপড়ে পড়ল গাছ!


বিধানসভা সূত্রে খবর, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই পদের জন্য বিধায়করা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। ১ জুলাই হবে স্ক্রুটিনি এবং ২ জুলাই বিকেল ৩টের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ থাকবে। এরপর ৫ জুলাই হবে মূল ভোটগ্রহণ পর্ব। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভোটে শাসক শিবিরের কেউ অংশ নিতে পারবেন না; ভোট দেবেন শুধুমাত্র বিরোধী বেঞ্চে থাকা কংগ্রেস, সিপিএম ও আইএসএফ-এর ৮৭ জন বিধায়ক। প্রতিটি কমিটির নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা হবে ২০ জন। 


অন্দরের খবর, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পিএসি চেয়ারম্যান পদের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। তারা এই হাই-প্রোফাইল পদের জন্য কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সামনে রেখে ঘুঁটি সাজাচ্ছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১০-১৫ জন বিধায়কের অবশিষ্ট দল এই ভোটে আদৌ কোনো প্রার্থী দেবে নাকি ওয়াকওভার দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথমবার চেয়ারম্যান পদের জন্য এমন ভোটাভুটি দলবদলের রাজনীতিতে কার পাল্লা ভারী, তা স্পষ্ট করে দেবে।

বিষয় : TrinamoolCongress firhadhakim westbengalassembly RitabrataBanerjee paccchairmanelection

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ইতিহাসে এই প্রথম! ‘আসল’ তৃণমূল কে বোঝাতে বিধানসভায় বেনজির ভোটাভুটি, কার দখলে যাবে পিএসি চেয়ারম্যানের কুর্সি?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: এক চরম নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। দলের প্রতীক, তহবিল এবং রাশ কার হাতে থাকবে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি 'বিদ্রোহী' নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সেই ধন্দ কাটাতে এবার সোজা ভোটাভুটির পথেই হাঁটতে হচ্ছে বিধানসভাকে। রাজ্য রাজনীতির এই টালমাটাল আবহে এবার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি (PAC) চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে আগামী ৫ জুলাই এক মেগা ভোটযুদ্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভার তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ভোট প্রক্রিয়ার বিস্তারিত সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যেই পারদ চড়তে শুরু করেছে।সাধারণত সংসদীয় রাজনীতি বা বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, পিএসি বা পাবলিক আন্ডারটেকিং কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নজরদারি কমিটিগুলোর রাশ থাকে প্রধান বিরোধী দলের হাতে। বিরোধী দলনেতা যাঁর নাম মনোনয়ন করেন, তিনিই সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান হন। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল বিরোধী আসনে বসার পরই দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন সব হিসেব উল্টে দেয়। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে নস্যাৎ করে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেন। সংখ্যাধিক্যের জোরে ঋতব্রত বিরোধী দলনেতার তকমা ছিনিয়ে নিলেও মমতা শিবির তাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ফলে আইনি জটে আটকে রয়েছে বিরোধী দলনেতার ভাগ্য। এই চরম ধাঁধা ও জটিলতা কাটাতেই এবার কোনো মনোনয়ন নয়, বরং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে চার চারটি কমিটির চেয়ারম্যান বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।মুহুর্মুহু বজ্রপাতে কাঁপল কলকাতা, উপড়ে পড়ল গাছ! বিধানসভা সূত্রে খবর, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই পদের জন্য বিধায়করা মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। ১ জুলাই হবে স্ক্রুটিনি এবং ২ জুলাই বিকেল ৩টের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ থাকবে। এরপর ৫ জুলাই হবে মূল ভোটগ্রহণ পর্ব। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভোটে শাসক শিবিরের কেউ অংশ নিতে পারবেন না; ভোট দেবেন শুধুমাত্র বিরোধী বেঞ্চে থাকা কংগ্রেস, সিপিএম ও আইএসএফ-এর ৮৭ জন বিধায়ক। প্রতিটি কমিটির নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা হবে ২০ জন। অন্দরের খবর, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পিএসি চেয়ারম্যান পদের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। তারা এই হাই-প্রোফাইল পদের জন্য কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সামনে রেখে ঘুঁটি সাজাচ্ছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১০-১৫ জন বিধায়কের অবশিষ্ট দল এই ভোটে আদৌ কোনো প্রার্থী দেবে নাকি ওয়াকওভার দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথমবার চেয়ারম্যান পদের জন্য এমন ভোটাভুটি দলবদলের রাজনীতিতে কার পাল্লা ভারী, তা স্পষ্ট করে দেবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার