কলকাতা: ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক পালাবদলের পর রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট অধিবেশন ঘিরে প্রথম থেকেই পারদ চড়ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিধানসভার অন্দরে যা ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন! এবারই প্রথমবার ভোটে জিতে বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় পা রেখেছেন 'কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস' নেতা কুণাল ঘোষ। আর নিজের প্রথম বা ‘ডেবিউ’ ভাষণেই শুধু শাসকদলের বিধায়কদের নয়, সরাসরি স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গেই চরম সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেন তিনি। স্পিকারের উদ্দেশে তাঁর ছুঁড়ে দেওয়া ‘রসগোল্লা’ মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিধানসভার কক্ষ।
মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা চলার সময় নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপিকে আক্রমণ করতে শুরু করেন কুণাল ঘোষ। কিন্তু শুরু থেকেই তাঁর একাধিক বক্তব্য ব্যক্তিগত ও নিয়ম-বহির্ভূত দাবি করে বাধা দিতে থাকেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস। এতেই মেজাজ হারিয়ে স্পিকারের আসনের দিকে তাকিয়ে গর্জে ওঠেন কুণাল।
তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “মনে রাখবেন, গলার জোর কিন্তু আপনাদের একার নেই, আমাদেরও আছে।” স্পিকার রথীন্দ্র বোস কড়া সুরে তাঁকে অবান্তর কথা বলতে বারণ করলে একচুলও জমি না ছেড়ে কুণাল সপাট জবাব দেন, “আপনি স্পিকারের আসনে বসে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, আপনিও কিন্তু প্রথমবারই এখানে স্পিকার হয়ে এসেছেন। আর আপনি যদি আমার সঙ্গে এইভাবে কথা বলেন, তবে আমি কি আপনাকে রসগোল্লা খাওয়াব নাকি?” প্রথমবার জেতা একজন বিধায়কের মুখে খোদ স্পিকারের প্রতি এমন মন্তব্যে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় হাতাহাতির উপক্রম হওয়া বিধানসভায়।
স্পিকারের সঙ্গে বেনজির সংঘাতের মাঝেই রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের রাশ কেড়ে নেওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন কুণাল ঘোষ। স্পিকারের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমি জনগণের কথা বলতে উঠলে পদে পদে বাধা দেওয়া হয়, অথচ ওই মেরুদণ্ডহীন, ব্যাকডোর থেকে আসা বিরোধী দলনেতা বক্তব্য রাখলে আপনারা টেবিল চাপড়ান!”
এর পরেই দলবদলু নেতাদের আক্রমণ করে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, আজ যে নতুন শিবির তৈরি হয়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ থাকা নেতারা বসে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই-ইডি বা পুলিশের কেসগুলো এবার ঠিকঠাক চলবে তো? ক্ষমতা হারানোর যন্ত্রণা চেপে রেখে কুণাল বুক চিতিয়ে বলেন, “এই নির্বাচনে আমরা সংখ্যাতত্ত্বে হেরে সাময়িকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের আঙুলের ভোটের কালি এখনও শুকায়নি। আর হেরে গেলেও আমি অন্তত ঋতব্রতর মতো বেইমান বা গদ্দার হয়ে যাইনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছি।” কুণালের এই বিস্ফোরক ভাষণের সময় শাসক বেঞ্চের তীব্র চিৎকারে বাজেট অধিবেশনের প্রথমার্ধ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন