কলকাতা: চোরবাগান দুর্গোৎসবের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের আঁচ এবার আছড়ে পড়ল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরেও। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বড় মণ্ডপগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছিল।
কিন্তু সেই জরুরি আবহের মধ্যেই জানা যায়, অনুমতি না নিয়েই বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিক গায়েব! চরম অনিয়মের এই চিত্র নজরে আসতেই শুক্রবার ক্ষোভ উগরে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের টানা ১০ দিনের ছুটির অলিখিত ‘রেওয়াজ’ আগামী বছর থেকে চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে।
শুক্রবার দ্বাদশীর দিনে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি অত্যন্ত লজ্জাজনক। সরকারি কর্মচারী মানেই জনগণের কর্মচারী, আর তাঁদের বেতন চলে আমজনতার রাজস্বের টাকায়। স্বাস্থ্য দফতর আর পাঁচটা সাধারণ সরকারি দফতরের মতো নয়, এটা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা জরুরি পরিষেবা। এখানে আমাদের আলাদা করে কোনও উৎসব থাকতে পারে না।” এর পরেই তিনি ঘোষণা করেন, এ বছরই যাঁদের অনুমতি ছাড়া ছুটি ছিল, তাঁদের ছুটি বাতিল করে অবিলম্বে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
চোরবাগানের ঘটনার অভিঘাত যে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের ধারাই বদলে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করে আগামী বছরের রূপরেখা ঘোষণা করেন মন্ত্রী। শারদ্বতবাবু জানান, ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষষ্ঠী থেকেই হাসপাতালে যে পুজো-পুজো ভাব এবং লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত অবকাশযাপনের চল তৈরি হয়েছিল, আগামী বছর থেকে তা আর বরদাস্ত করা হবে না।
আগামী বছর থেকে কেবল সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী, এই চার দিনের জন্য ‘স্পেশ্যাল রস্টার’ বা বিশেষ ডিউটি সূচি তৈরি হবে। তবে সেই রস্টারে নন-মেডিক্যাল কর্মীদের সংখ্যা অর্ধেক করা হলেও, চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে আগাম ছুটি নেওয়ার কোনও সুযোগ থাকছে না।
প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের হাসপাতালেই উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে চোরবাগান ট্র্যাজেডির শিক্ষা থেকেই স্বাস্থ্য দফতরের এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক মহল।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন