কৃষ্ণনগর: সুজিত বসুর গ্রেপ্তারির রেশ কাটার আগেই এবার পুলিশের জালে রাজ্যের আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী। রেশন বা নিয়োগ দুর্নীতি নয়, এবার সরাসরি সরকারি ত্রাণসামগ্রী চুরির মারাত্মক অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর এই গ্রেপ্তারি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে প্রাক্তন মন্ত্রীর কৃষ্ণনগরের বাড়ির সামনে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সকালবেলা উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে হুড়মুড় করে সরকারি ত্রিপল তোলা হচ্ছিল। এই দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসতেই এলাকায় তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর চাউর হতেই কাতারে কাতারে মানুষ মন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে জড়ো হন এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রাক্তন মন্ত্রীকে রীতিমতো জনরোষের মুখে পড়তে হয়।
বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্ত্রীর কৃষ্ণনগরের ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছিল। শুধু ত্রিপলই নয়, তল্লাশি চালাতেই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় সরকারি কম্বল এবং সাদা থান-কাপড়ের মতো একাধিক সামগ্রী, যা সাধারণত আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে উজ্জ্বল বিশ্বাসের দাবি, আসন্ন ইদ উপলক্ষে এলাকার দুঃস্থ মানুষের মধ্যে বিলি করার জন্যই এই সামগ্রীগুলি আনা হয়েছিল। কিছু বিতরণ করা হলেও বাকিটা বাড়িতেই রাখা ছিল।
জনতার বিক্ষোভ এবং প্রবল উত্তেজনার মাঝেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে প্রাক্তন মন্ত্রীকে উদ্ধার করে যখন থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। তীব্র উত্তেজনার আবহে থানায় নিয়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। কিন্তু বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয়। এবারের নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রেই হারের মুখ দেখতে হয়েছিল তৃণমূলের এই দীর্ঘদিনের মন্ত্রীকে, আর এবার শ্রীঘরে ঠাঁই হলো তাঁর।
কারামন্ত্রীর এই গ্রেপ্তারি নিয়ে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সামগ্রী সত্যিই সরকারি নাকি ব্যক্তিগত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি তা সরকারি হয়েই থাকে, তবে তা কোনো সরকারি গুদামে না রেখে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত আবাসে কেন মজুত করা হলো? সাধারণ মানুষের কাছে তা বিতরণ করা সম্ভব না হলে কেন মহকুমা শাসক বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলো না? আর মঙ্গলবার সকালে গাড়ি করে সেইসব সামগ্রী কোথায় পাচার করার তোড়জোড় চলছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন