Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বাংলায় সাড়ে ৬০০ কোটির মেগা ফ্যাক্টরি আমুলের, ভিত পুজোতে হাজির হচ্ছেন খোদ অমিত শাহ

বাংলায় সাড়ে ৬০০ কোটির মেগা ফ্যাক্টরি আমুলের, ভিত পুজোতে হাজির হচ্ছেন খোদ অমিত শাহ
FILE IMAGE

হাওড়া: বিগত জমানার ভুঁইফোড় প্রতিশ্রুতি আর বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের ফাঁকা আওয়াজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশেষে বঙ্গে শিল্পের খরা কাটতে চলেছে। বাংলায় এক ধাক্কায় প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ নিয়ে পা রাখল দেশের দুগ্ধ উৎপাদনকারী জায়ান্ট সংস্থা ‘আমুল’। হাওড়ার সাঁকরাইলের সালকিয়া ফুড পার্কে তৈরি হতে চলেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই, লস্যি ও ঘোল উৎপাদনকারী মেগা ডেয়ারি প্ল্যান্ট। এই বিপুল কর্মসংস্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে আগামী ১৩ জুন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে আসছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর হাত ধরেই এই নতুন প্ল্যান্টের শিলান্যাস সম্পন্ন হবে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।


তৃণমূল জমানার অবসানের পরই রাজ্যে ১০০ দিনের মধ্যে শিল্পের ম্যাজিক দেখানোর বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই প্রতিশ্রুতির রেশ কাটতে না কাটতেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসেন গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন মেহতা এবং আমুল ডেয়ারির প্রধান অমিত ব্যাস। সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই বাংলায় আমুলের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হতে চলা এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক বিশিষ্ট অতিথি ও দুগ্ধচাষি হাজির থাকবেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর।


প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গুজরাটেরই একটি নামী সংস্থা দুই দফায় এই বিশ্বমানের কারখানাটি গড়ে তুলবে। নতুন এই প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই, লস্যি এবং ঘোল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বিপুল এই পরিকাঠামো একদিকে যেমন দক্ষিণবঙ্গের দুগ্ধচাষিদের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দেবে, তেমনই অন্যদিকে হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এতদিন যারা কাজের খোঁজে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছিলেন, তাঁরা এবার নিজের রাজ্যেই কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃণমূল ছাড়ছেন একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক

আমুলের এই শিল্প বিপ্লব কেবল হাওড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সূত্রের খবর, প্রথম দফার এই সফল রূপায়ণের পরই উত্তরবঙ্গের দুগ্ধ পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে সেখানেও একটি বড়সড় প্ল্যান্ট তৈরির মহাপরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। ফলে দীর্ঘদিনের বন্ধ বা রুগ্ন চটকল ও কলকারখানার রাজ্যে আমুলের এই প্রবেশ এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর এবং সাড়ে ৬০০ কোটির বিনিয়োগের জোয়ারে বাংলার মাটিতে এবার সত্যিই ‘শিল্পের সুদিন’ ফেরে কি না, সেটাই এখন দেখার।

বিষয় : HowrahNews Suvendu Adhikary AmitShahVisit AmulInvestment employmentgeneration

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাংলায় সাড়ে ৬০০ কোটির মেগা ফ্যাক্টরি আমুলের, ভিত পুজোতে হাজির হচ্ছেন খোদ অমিত শাহ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image
হাওড়া: বিগত জমানার ভুঁইফোড় প্রতিশ্রুতি আর বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের ফাঁকা আওয়াজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবশেষে বঙ্গে শিল্পের খরা কাটতে চলেছে। বাংলায় এক ধাক্কায় প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ নিয়ে পা রাখল দেশের দুগ্ধ উৎপাদনকারী জায়ান্ট সংস্থা ‘আমুল’। হাওড়ার সাঁকরাইলের সালকিয়া ফুড পার্কে তৈরি হতে চলেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই, লস্যি ও ঘোল উৎপাদনকারী মেগা ডেয়ারি প্ল্যান্ট। এই বিপুল কর্মসংস্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে আগামী ১৩ জুন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে আসছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর হাত ধরেই এই নতুন প্ল্যান্টের শিলান্যাস সম্পন্ন হবে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।তৃণমূল জমানার অবসানের পরই রাজ্যে ১০০ দিনের মধ্যে শিল্পের ম্যাজিক দেখানোর বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই প্রতিশ্রুতির রেশ কাটতে না কাটতেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসেন গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন মেহতা এবং আমুল ডেয়ারির প্রধান অমিত ব্যাস। সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই বাংলায় আমুলের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হতে চলা এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রায় শতাধিক বিশিষ্ট অতিথি ও দুগ্ধচাষি হাজির থাকবেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গুজরাটেরই একটি নামী সংস্থা দুই দফায় এই বিশ্বমানের কারখানাটি গড়ে তুলবে। নতুন এই প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই, লস্যি এবং ঘোল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বিপুল এই পরিকাঠামো একদিকে যেমন দক্ষিণবঙ্গের দুগ্ধচাষিদের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দেবে, তেমনই অন্যদিকে হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এতদিন যারা কাজের খোঁজে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছিলেন, তাঁরা এবার নিজের রাজ্যেই কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।তৃণমূল ছাড়ছেন একের পর এক সাংসদ-বিধায়কআমুলের এই শিল্প বিপ্লব কেবল হাওড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সূত্রের খবর, প্রথম দফার এই সফল রূপায়ণের পরই উত্তরবঙ্গের দুগ্ধ পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে সেখানেও একটি বড়সড় প্ল্যান্ট তৈরির মহাপরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। ফলে দীর্ঘদিনের বন্ধ বা রুগ্ন চটকল ও কলকারখানার রাজ্যে আমুলের এই প্রবেশ এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর এবং সাড়ে ৬০০ কোটির বিনিয়োগের জোয়ারে বাংলার মাটিতে এবার সত্যিই ‘শিল্পের সুদিন’ ফেরে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার