কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের ওপর আইনি জালে জড়ানোর প্রক্রিয়া আরও তীব্র হচ্ছে। হকারদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে জোড়া এফআইআর দায়ের হতেই এবার এলাকা ছেড়ে চম্পট দিলেন কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১২ নম্বর বোরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় তাঁর দেখা মিলছিল না, ফোন করলেও আসছিল ‘সুইচড অফ’ বার্তা। এর মাঝেই দুইয়ে দুইয়ে চার করে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই জানা গেল, সপরিবারে ওড়িশা সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় বেলদা সীমানা থেকে সুশান্ত ঘোষের গাড়ি ও তাঁর চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গাড়ির চালক জালে পড়লেও স্বয়ং কাউন্সিলর এই মুহূর্তে কোথায় আত্মগোপন করে আছেন, তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা।
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় এই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একটি বাজারের হকার্স কমিটির অন্তত ১৩০ জন সদস্য। তাঁদের দাবি, বাজারে দোকান বরাদ্দ ও নতুন শাটার লাগিয়ে পরিকাঠামো নির্মাণের নামে সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর সাতজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিলে গত কয়েক বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নতুন তৈরি হওয়া বেশ কিছু দোকান ছ-লক্ষ টাকা দরে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বিপুল অঙ্কের তোলাবাজির কারবার চালানো হয়েছিল এবং কে কত বড় দোকান পাবেন, তা সুশান্তের সিন্ডিকেটই ঠিক করে দিত। শাসকদলের ক্ষমতার দাপট কমতেই এবার সেই প্রতারিত ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং তাঁদের আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন। এই কোটি টাকার হকার-কেলেঙ্কারির জেরেই কি সপরিবারে ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছিলেন সুশান্ত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন