কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের তারকা নেতাদের আইনি বিপাক যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার এক কোটি টাকারও বেশি আর্থিক জালিয়াতি ও প্রতারণার মারাত্মক অভিযোগে আইনি খাঁড়ার মুখে পড়লেন অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। শুক্রবার কলকাতার চারু মার্কেট থানায় এই তারকা-নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একটি হাইপ্রোফাইল এফআইআর। অভিযোগ, একটি ছবিতে অভিনয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কোটিরও বেশি টাকা অগ্রিম নিয়েও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি করেননি সোহম, উল্টে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে নিজের ‘বিধায়ক’ পদের দাপট দেখিয়ে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন তিনি। কৌশিক কর্মকার নামে আড়িয়াদহের একটি সংস্থার এক প্রতিনিধির দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে, যখন সোহমের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘সোহম এন্টারটেনমেন্ট’-এর ব্যানারে ‘লাল সুটকেসটা কোথায়’ নামের একটি সিনেমার জন্য ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন কৌশিকবাবু। কিন্তু চুক্তিপত্র সই হওয়ার পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও সিনেমাটির কাজ এগোয়নি। দিনের পর দিন ঘুরেও টাকা ফেরত না পেয়ে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন প্রতারিত বিনিয়োগকারী। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, সোহমের সংস্থার তরফে চুক্তির সময় যে সমস্ত নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তার মধ্যে বেশ কিছু ভুয়ো নথিও ছিল। ফলে কৌশিকবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা রুজু করেছে চারু মার্কেট থানার পুলিশ। এই হেভিওয়েট কাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে শোরগোল পড়ে গেলেও সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে পুলিশি সূত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত, খুব শীঘ্রই বয়ান রেকর্ডের জন্য এই টলিউড তারকাকে সমন পাঠিয়ে তলব করা হতে পারে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন